শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১১

দেশ দেশান্তর


মমতার বিজয় আমাদের আশাবাদী করে না

. তারেক শামসুর রেহমান

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এখন মমতা ব্যানার্জি। দীর্ঘ বছর মতায় থাকা বামফ্রন্টকে পরাজিত করে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রীর আসনটিদখলকরতে সমর্থ হলেও থেকে আমাদের ফুল্ল হওয়ার তেমন কোনো কারণ নেই। কেননা মমতা কেন্দ্রের মতাসীনদের সঙ্গে আছেন বেশ কয়েক বছর ধরে।এখন জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে আছেন। এক সময় বিজেপির সঙ্গেও ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স) মিত্রছিলেন মমতা। অনেকদিন থেকেই মতার আশপাশে আছেন। আমাদের নেতা-নেত্রীরা যখনই নয়াদিল্লি যান, তখন দুব্যক্তির সঙ্গে অবশ্যই তারা দেখা করেন।তাদের একজন প্রণব মুখার্জি, অপরজন মমতা ব্যানার্জি। আমাদের নেতা-নেত্রীদের ধারণা তাদের দুজনের সঙ্গে দেখা করলে, পদ্মার ইলিশ, মিষ্টি আরসিরামিকের উপহার সামগ্রী নিয়ে গেলে তারা বাংলাদেশের সমস্যারসমাধানকরে দেবেন।
অতীতে জ্যোতি বসু যত দিন জীবিত ছিলেন, তিনি ছিলেন আমাদের আরেকটাভরসার স্থান কিন্তু বিরাজমান সমস্যাগুলোর সমাধান কী হয়েছে, আমরাতা সবাই জানি আমাদের সমস্যা এখানেই। যেখানে আন্তর্জাতিক আইন জাতিসংঘের সনদ অনুসরণ করে আমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে পারছিনা, সেখানে আমরা ভরসা করছি কখনও জ্যোতি বসুর ওপর, কখনও প্রণব, কখনও মমতার ওপর। কিন্তু আমরা ভুলে যাই তারা রাজনীতি করেনসর্বভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে। মমতা বা প্রণব বাবু বাংলায় কথা বললেও মূলত এরা ভারতীয়। ভারতের স্বার্থটা আগে। জ্যোতি বসু তো কমিউনিস্টছিলেন। আদি বাড়ি বাংলাদেশে। কমিউনিস্টরা সাধারণত নিপীড়িত শোষিত মানুষদের পাশে এসে দাঁড়ায় বলে বলা হয়। কেননা তত্ত্বগতভাবে তারাআনতর্জাতিকতাবাদে বিশ্বাসী। কিন্তু বাংলাদেশের কোন সমস্যাটা সমাধান করে দিয়েছেন জ্যোতি বসু? একটিও নয়। অথচ জ্যোতি বসুর নাম শুনলেই আমরাগদগদ হয়ে গেছি।
কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ অমানবিকভাবে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখল কয়েক ঘণ্টা, সেদিন কি মমতা এর প্রতিবাদ করেছিলেন? তিনিতো তখন কেন্দ্রের মন্ত্রী, ইউপিএ জোটের শরিক। মমতা প্রতিবাদ করেননি। বাংলাদেশের মানুষদের মূল্যবোধের প্রতি সহমর্মিতাও দেখাননি। কারণ তিনিসর্বভারতীয় রাজনীতি করেন, যেখানে বাংলাদেশকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। বাংলাদেশের স্বার্থ তাই ভারতীয় নেতাদের কাছে বড় হয়ে দেখা দেয়নি।যশোরের মেয়ে মমতা। তার জন্ম যশোরে হয়নি বটে, কিন্তু বাবার বাড়ি ছিল যশোরে। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্তির সময় তার পূর্বপুরুষ চলে গিয়েছিলপশ্চিমবঙ্গে। তিনি যে ধরনের নেত্রী, তাতে কেন্দ্র সরকার তার কথা শুনতে বাধ্য। কিন্তু বাংলাদেশ যে ধীরে ধীরে মরুময়তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে শুধু ভারতেরপানি প্রত্যাহারের কারণে, মমতা কি ব্যাপারে কোনো দিন কোনো কথা বলেছেন? কেউ কি সে কথা বলে?
নির্বাচনে বিজয়ের পর আমাদের প্রধানমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ফোন করেছিলেন। কথাটা প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের কাছ থেকে আমরা শুনিনি। তিনি ব্রিফিংওকরেননি। আমরা জানলাম মমতা ব্যানাজির মুখ থেকে (‘বাংলাদেশ থেকে হাসিনাদির ফোন পেয়েছি’) প্রধানমন্ত্রী কি এটা করতে পারেন! প্রটোকল কি তাকেঅনুমতি দেয়? একটি স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী কী পারেন অন্য কোনো দেশের প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে? ব্রিটনের প্রধানমন্ত্রী কি জার্মানিররাইনল্যান্ড ফালসের অতি সম্প্র্রতি নির্বাচনে বিজয়ী মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন? না, জানাননি। কেননা প্রটোকল অনুযায়ী তিনি তা পারেন না।অথচ আমাদের প্রধানমন্ত্রী তা করলেন। তারপর শুনুন মমতা কী বলেছেন। মমতার ভাষায়মনে হচ্ছে যেন দুই বাংলা এক হয়ে গেল’ (কালের কন্ঠ, ১৪ মে, পৃ.-১০) কী ভয়ঙ্কর কথা! ‘দুই বাংলা এক হয়ে গেল’! কী বোঝাতে চাচ্ছেন মমতা? আমাদের প্রধানমন্ত্রী ফোনে শুভেচ্ছা জানাবেন আর ভারতের নেতারাবলবেনদুই বাংলা এক হয়ে গেলএটা তো আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি! আমরা তো জন্য স্বাধীনতা সংগ্রাম করিনি। জন্য তো লাখলাখ লোক মারা যায়নি।
স্বাধীনতার চল্লিশ বছরে আমরা পা দিয়েছি। এই চল্লিশ বছরেবন্ধুরাষ্ট্রভারতের সঙ্গে আমাদের যত সমস্যা বেড়েছে, দণি এশিয়ার অন্য কোনো দেশের সঙ্গেআমাদের সমস্যা নেই। গত ১৬ মে ছিল ফারাক্কা দিবস। পানির ন্যায্য হিস্যা ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে ফারাক্কা মিছিল করেছিলেন মওলানাভাসানী। আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো মতায় এসেই নয়াদিল্লি ছুটে গিয়ে একটি চুক্তি করেছিলেন (১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে) কিন্তু যতটুকু পানিআমাদের পাওয়ার কথা সে পানি চুক্তি স্বারের পর কোনো দিনই আমরা পাইনি। অথচ ওই চুক্তি নিয়ে কতঅর্জনেরকথা বলা হয়। তিস্তার পানি বণ্টননিয়েও কোনো খবর নেই। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে যখন আমরা সোচ্চার, তখন আমাদের সংসদ সদস্যরাপ্রমোদ বিহারেগেলেন, হেলিকপ্টারে ঘুরলেন, জানালেন তারা কিছুই দেখতে পাননি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বললেন ভারত এমন কিছু করবে না, যাতে বাংলাদেশ তিগ্রস্থ হয়। তার কথা যখন পত্রিকাগুলোপ্রকাশ করছে, তখন মিজোরামের মানুষ ওই বাঁধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করছে। ভারতীয় নেতারা আমাদেরঘুম পাড়ানির গান শুনিয়েআমাদের ঘুমপাড়িয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
আমরা ভারতকে ট্রানজিট দিলাম। কিন্তু আমরা, বা নেপাল ভুটান এখনও  ট্রানজিট পায়নি। ভারত থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আমরা ভারতীয় হেভি ট্রাকচলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করছি। ওই  রাস্তা দিয়ে ভারতীয় হেভি ট্রাক যাবে কোনো ধরনের শুল্ক না দিয়েই। আর আমরা বছরের পর বছর গুনতে থাকবসুদ। বলা হয়েছিল বিদ্যুআসবে ভারত থেকে।  কোথায সেই বিদ্যুৎ? ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কোনো উদ্যোগ নেই। বাংলাদেশী পণ্যেরচাহিদা ভারতে থাকলেও তা নানা ট্যারিফ প্যারা-ট্যারিফের কারণে ভারতে প্রবেশ করতে পারছে না।
জানা গেছে, আগামী বছরের জন্য ভারত শুল্কমুক্ত আরও ১০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ২২৪টি পণ্য বাংলাদেশে রফতানি করার অনুমতি চেয়েছে।অথচ ভারতে বাংলাদেশী  ৬১ টি পণ্য শুল্কমুক্তভাবে প্রবেশের অনুমতির কথা রয়েছে, যা দীর্ঘসূত্রতার জন্য আটকে আছে। সম্প্র্রতি ভারত বাংলাদেশ থেকেআমদানিকৃত সিমেন্টের ওপর অতিরিক্ত ১৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। জানা গেছে, দণি এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সাফটা) এবং বিশ্ববাণিজ্য সংস্থারবিধান অনুযায়ী ভারতে পণ্য রফতানির েেত্র বাংলাদেশের নানা ধরনের সুবিধা পাওয়ার কথা (দিনকাল, ১৭ মে)
বাংলাদেশ সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে স্বল্পোন্নত। জন্য বাংলাদেশের বিশেষ সুবিধা পাওয়ার কথা। কিন্তু ভারত সেই সুবিধা বাংলাদেশকে কখনই দেয়নি।এেেত্র মমতা বা প্রণব মুখার্জির মতো নেতারা কোনো দিন বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়াননি। কেননা তারা বাঙালি হয়েও স্বার্থ দেখেছে ভারতের। অথচআমাদের নেতারা বারবার ভারতীয়বাঙালি বাবুদেরদিকে তাকিয়ে থেকেছেন। বলতে দ্বিধা নেই, শুধু ভারতের কারণেই সার্ক ঠিকমত বিকশিত হতে পারছেনা। এর মূল কারণ, মূলত ভারতীয় আধিপত্যবাদী নীতি। নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রচন্দ প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেছেন যে, তার অপসারণের পেছনেভারতের হাত ছিল। যারা দণি এশিয়ার রাজনীতির কিছুটা খোঁজখবর রাখেন, তারা জানেন ভারত নেপালের রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাব খাটায়। ভারতীয়গোয়েন্দা সংস্থা নেপালে অত্যন্ত সক্রিয়। শ্রীলঙ্কার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নেতা প্রভাকরণকে রাই তৈরি করেছিল। আসলে ভারত তার নিজেরদৃষ্টিভঙ্গির আলোকেই পার্শ্ববর্তী দেশগুলো তথা দণি এশিয়াকে দেখতে চায়।
অর্থনীতিতে অনেক বড় শক্তি ভারত। দণি এশিয়ার দরিদ্রতা দূরীকরণে তথা উন্নয়নে ভারত বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু এই আধিপত্যবাদী নীতিরকারণেই ভারত দণি এশিয়ায়বন্ধুশূন্যহতে যাচ্ছে। মমতা ব্যানার্জি, প্রণব মুখার্জি এরা সবাই মূলত এই আধিপত্যবাদী নীতিরই সমর্থন করছেন। সুতরাংআমাদের প্রধানমন্ত্রী মমতাকে ফোন করে যত আঞ্চলিক সহযোগিতার কথা বলেন না কেন, এই আঞ্চলিক সহযোগিতা কোনো দিনই প্রতিষ্ঠিত হবে না যতদিননা ভারত তার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সাহায্য করেছিল। কিন্তু সেই সাহায্য সহযোগিতা অর্থহীন হয়ে গেছে ভারতেরআগ্রাসী মনোভাবের কারণে। ফেলানী যেন এক টুকরা বাংলাদেশ। যখন লাশ হয়ে ঝুলে থাকে ফেলানীরা তখন ভারতেরবন্ধুত্বকোথায় প্রশ্ন করার অধিকাররয়েছে দেশের জনগণের। বাংলাদেশকে তারা কীভাবে দেখে, ফেলানীর ঝুলে থাকা লাশ এর বড় প্রমাণ। তাই মমতা ব্যানার্জি যখন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনেবিজয়ী হন, তখন আমাদের সাহিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। মানুষ সেখানে পরিবর্তন চেয়েছে। আরসেই পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে আদৌ কোনো উন্নতি পরিলতি হবে না। যারা সম্পর্ক উন্নত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্তকরেন, তাদের শুধু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন কালীন ভারতীয় সরকারের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি স্বারকরেছিল, তখন মমতা এর প্রচন্ড বিরোধিতা করেছিলেন। মমতা হচ্ছেন ভারতীয় রানজীতিতেমোস্ট আনপ্রেডেকটিবল পার্সন’, যার ওপর আস্থা রাখা যায়না। যে কোনো সময় তিনি ভোল পাল্টাতে পারেন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে তার আঁতাত কতদিন স্থায়ী হয়, সেটাও একটা বড় প্রশ্ন এখন। মমতাব্যানার্জির কাছ থেকে আমাদের প্রত্যাশা করার কিছু নেই।

লেখক : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রবন্ধ


একটি সফল কমান্ডো
অভিযানের ব্যর্থ পরিসমাপ্তি
 মু: গোলাম মাওলা খান

/১১ আমেরিকার নিউইয়র্ক শহর, প্রতিদিনের মত সেদিনও ছিল ব্যস্ত শহর। এই ব্যস্ত শহরেই গর্বের সাথে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়েরভয়াল সাী বহুতল ভবন টুইন টাওয়ার। ঘটনার কিছু পূর্ব মুহুর্তে হয়তোবা সে আচঁ করতে পারেনি যে তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছে। হঠাএইইট পাথরের ভবনটির উপর আছড়ে পড়লো গোটা তিনেক বিমান। তার বুক ভেদ করে বেরিয়ে এল নতুন ইতিহাস। নির্মাণের নিমিত্তে নিহত হল তিন হাজারআর আহত হল অসংখ্য। আর নির্যাতিত হবার জন্যে প্রহর গুনতে লাগলো ভবনটি থেকে অনেক দূরে কিছু মুসলিম জনপদ। আমরা এই ধ্বংসের নিন্দা জানাই, হোক সে পরিকল্পিত বা সন্ত্রাসী হামলা। এখনো এই ধ্বংসের রহস্য চাপা পড়ে আছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কোন অদৃশ্য জগতে। আর এর উত্তর হয়তো কোন দিনমিলবেনা। আর এই ধ্বংসের জন্য দাবি করা হল ওসামা বিন লাদেনকে। কোন তথ্য প্রমান ছাড়াই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হল। এই ওসামা অভিযানেরমাধ্যমে তাড়িয়েছিল। আর তাই সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্টের এত ভয়। তখন কার আফগান শাসক তালেবানের কাছে লাদেনকে দাবি করল যুক্তরাষ্ট্র তালেবানরা হামলার সাথে জড়িত থাকার প্রমান চাইলে তারা তা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলো। তারা সে দিন প্রমান দিল না, কারন নিজের পাপ কে প্রকাশকরতে চায়, তাহলে যে নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গের জন্য বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড়াতে হবে
অবশেষে, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে হামলা হলো আফগানিস্তানে প্রাণ দিতে থাকলো মজলুম। তছনত হলো ইতিহাস ঐতিহ্যের ভূমি আফগান। আস্তে আস্তেতাদের ষড়যন্ত্রের জাল ছড়িয়ে পড়ল পাকিস্থানে। আর ষড়যন্ত্রের জালে নতুন একটু অংশ বাড়িয়ে দিতে কথিত সাজানো সফল অভিযান পরিচালিত হলপাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে। সামরিক এলাকা থেকে মাত্র দুই হাজার চারশত ফুট দূরে একটা ভূ-তুড়ে বাড়ি। যে বাড়িতে নাকি আল কায়দা খ্যাত লাদেন বাসকরত। আর পরিচালনা করত তার দল। মজার ব্যাপার  হলো সেদিনকের অভিযানে লাদেন কে তারা কোথায় পেল যে লাদেন মারা গেছেন আরো আগে।আমেরিকার রাজনীতিবিদ বুদ্ধিজীবীরা তাই মজা করে বললেন লাদেনের আবার পুর্নজন্ম হল কবে। ইরানের তথ্য  মন্ত্রী দাবি করেছেন, তাদের কাছে যথেষ্টপ্রমাণ আছে লাদেন কিডনি রোগে স্বাভাবিক মৃত্যু বরন করেছে। যাই হোক নিরস্ত্র লাদেন কে হত্যা করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জাস্টিস হ্যাজ বিন ডান। একটিস্বাধীন দেশে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে মানুষ হত্যা করে আবার তারা বলছে বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমেরিকাকে এই মতা কে দিল? কই কোন আদালতেলাদেন তো দোষী সাব্যস্ত হয়নি। শুধু সন্দেহ ভাজন কোন ব্যক্তিকে বিনা বিচারে হত্যা করে তার লাশ গুম করে যদি বিচার প্রতিষ্ঠা হয় তাহলে অবিচার কি? অবশেষে আমরা ধরে নিলাম সে দিনকার৩১ নেভি মিলেরকমান্ডো অভিযানে লাদেন নিহত হয়েছে এবং সফলতা একশত ভাগই আমেরিকার।
কিন্তু আবারও ষড়যন্ত্রের শিকার হল পাকিস্থান। আমেরিকানদের টার্গেট পাকাপোক্ত করতেই হয়তোবা সামরিক এলাকার কাছেই বেছে নেওয়া হল সেইবাড়িটিকে। পাথর্ক্য শুধু টুইন টাওয়ার নিউইয়র্কে আর বহুতল ভবন আরতাজাকিস্থান  প্যালেজঅ্যাবেটাবাদে দ্বি-তল ভবন। আর কোন পার্থক্য এইষড়যন্ত্রে নেই বলেই মনে হয়। আর লাদেন  কে বাড়িতে শনাক্ত করার ফলে সব দোষ পড়ল পাকিস্থানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএস আই এর ওপর। আরপশ্চিমা বাঘা বাঘা গোয়েন্দারা হয়তো এ্যাবোটাবাদকে  বাদ দিয়েছিলেন তাদের তালিকা থেকে। খুনিরা থানার পাশে বাড়ি ভাড়া নেওয়ার মতই বিগত কয়েকবছর আগে নিহত লাদেন সামরিক এলাকার নাকের ডগায় দীর্ঘ পাচঁ বছর বাস করছিলেন। সবই কেমন যেন হাস্যকর ধোঁয়াটে মনে হয়।
কিন্তু আর কত মানব সন্তান রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বলির পাঠা হলে এই সন্ত্রাসবাদ অভিযান শেষ হবে। পর্যন্ত প্রায় বিশ লাধিক মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছেসাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার হাতে। এর বিচার কে করবে, কে কমান্ডো অভিযান প্রেরণ করবে যুদ্ধপরাধী বুশের বিচারের আওতায় আনতে 
বুশ ওবামার  সন্ত্রাসী দমন অভিযানের বলির পাঠা হলো হতভাগা জনগন। জনপদের পর জনপদ তারা ধ্বংস করে চাপিয়ে দিচ্ছে তাদের নীতি। এইসাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা পৃথিবীতে  প্রথম যুদ্ধে পরাস্ত ঘটিয়েছে জাপানকে। আজ মানবতার বোবা কান্না ওদের কানে পৌঁছায়না। পৌঁছায়না ধর্ষিত বোনেরপাহাড় সমান কষ্ট। আজ মানবতা বাদীদের শান্তির পায়রা থেকে ফেলিত বোমার আঘাতে ছিন্ন-বিছিন্ন হচ্ছে কুসুম বাচ্চাদের দেহ। অনেক হৃদয় বিদারক দৃশ্যদেখা যায় আক্রান্ত জনপদ গুলোতে, যা টুইন টাওয়ার ধ্বংসের চেয়েও কয়েক হাজার গুন বেশি। এসব দৃশ্য দেখে যাদের মনুষ্যত্ব জাগ্রত আছে তাদের বিবেককেতাড়া করে ফেরে। কিন্তু পশ্চিমাদের সুরতি বিবেককে আঘাত হানতে পারেনা এসব দৃশ্য।
তাদের এই সন্ত্রাস দমন অভিযান শেষ হবে  সব মুসলিম  মারতে পারলে। দুনিয়া থেকে সংগ্রামী স্বাধীনতা কামী মানুষ গুলোকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারলেইতাদের শান্তি আসবে। আজ পৃথীবিতে সাম্রাজ্যবাদী বিরোধী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রে, হুগো শ্যাভেজ, আহমাদিনেজাদ তাদের চুশুল। বেঁেচ থাকলে হয়তো কার্লমাকস্র্, লেলিনও আমেরিকানদের প্রতিহত করার জন্য ব্যস্ত থাকতে হতো।
আজ সমাজের মুক্ত চিন্তার মানুষগুলো তাদের কাছে অসহনীয় তারা সবাই কে রক্তচুর ভয় দেখিয়ে পৃথিবী খ্যাত অস্ত্র প্রযুক্তি দিয়ে দাবিয়ে রাখতে চায়সত্যকে ধ্বংস করতে চায়, সত্যের বার্তা বাহকদের। কিন্তু ইতিহাস সাী দেয় তাদের শক্তিশালী পূর্বপুরুষরাও ঠিক একই কাজ করে ছিলেন। তবে তারা সফলহননি। তারা ইতিহাসের নোংরা পচাঁ গলিতে নিপ্তি হয়েছে। আর জয় হয়েছে মজলুমদের, জয় হয়েছে মানবতার, জয় হয়েছে সত্যের। কারনসত্যের জয়চিরস্থায়ী, আর মিথ্যার জয় ণস্থায়ী। অচিরেই এই সাম্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে মজলুম বেরিয়ে আসবে। তাদের গদি হবে তছনছ। সেদিনকারসাজানো কমান্ডো অভিযান সফল হলেও তাদের মূল নীলনকশা কাগজে কলমেই থেকে যাবে আর তা ব্যর্থ হবেই হবে ইনশাআল্লাহ।
# শিার্থী, জবি

সমসাময়িক


অপরাধের বিস্তার নারী নির্যাতন
শাহ আবদুল হান্নান


কয়েক দিন আগে পত্রিকার খবরে দেখা গেছে, বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে প্রায় দুই হাজার মানুষ খুন হয়েছে এবং দেড় হাজারের মতো ধর্ষণের ঘটনাঘটেছে। অন্য এক খবরে দেখা যায়, পুলিশ উঠতি মাস্তানদের নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। পাড়ায় পাড়ায় তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্য দিকে আইজিপি খন্দকারহাসান মাহমুদ ১০ অক্টোবর বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো। একই কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনও বারবার বলেছেন। সাধারণ লোকেরাকিন্তু এই কথা বিশ্বাস করতে পারছে না।
পরিপ্রেেিত আমার মনে হয়, জাতি এক ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্যে আছে। এটা বৃদ্ধি পাবে, যদি এখনই মোকাবেলার উদ্যোগ না নেয়া হয়। উঠতি মাস্তানদেরকথা দিয়েই শুরু করি। কেন পাড়ায় পাড়ায় এসব মাস্তানের আবির্ভাব ঘটছে? কেন বস্তিগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মাস্তান, খুনি, ভাড়াটে সন্ত্রাসী মাদকব্যবসায়ীর উদ্ভব ঘটছে? এর কারণ বোধহয় সবারই জানা। বস্তিগুলোতে সত্যিকারের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। সেখানে না আছে পানির ভালো ব্যবস্থা, নাআছে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। শিার সুযোগ তো একেবারেই নেই। বস্তিবাসী মা-বাবার সন্তানরা শিা পাচ্ছে না। অথচ শিা লাভ করা ছাড়া এদের কর্মসংস্থানসম্ভব নয়। তা হলে এরা ভবিষ্যতে কী হতে পারে? তারা হতে পারে এবং হচ্ছেও ছিনতাইকারী, পকেটমার, মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, ভাড়াটে খুনি, ধর্ষণকারী ইত্যাদি।
মাস্তানদের মধ্যে ধনী পরিবারের কিছু সন্তানও আছে। অথচ তাদের কোনো অভাব নেই। তাদের নিজেদের বাড়ি আছে, গাড়ি আছে। তার পরও তারা মাস্তান, ধর্ষণকারী, ছিনতাইকারী হচ্ছে। এদের ব্যাপারটি স্বতন্ত্র। এরা পরিবারে ভালো শিা নৈতিকতা পায়নি। বাবা-মায়ের খবরদারি তাদের ওপর অধিকাংশত্র থাকে না। তারা ইন্টারনেট থেকে অশ্লীলতা শিখছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের েেত্র তাদের ওপর বাসায় বাবা-মা নজর রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। ভিডিওতেনানা ধরনের যৌনতা দেখে তারা ভয়াবহ যৌনকাতর হয়ে পড়েছে। এদের পে অন্য নারীর মর্যাদাহানি কোনো ব্যাপার নয়। ইভটিজিং বা কিশোরীদের বিরক্তকরা তাদের জন্য কোনো বড় ব্যাপার নয়। তারা সহজেই ধর্ষণকারীতে পরিণত হয়। এমনকি তারা ধর্ষণের সংখ্যার হিসাব পর্যন্ত রাখে। যে যত বেশি ধর্ষণকরেছে, তাদের গোষ্ঠীর কাছে তারা বড় বীর। েে
পরিস্থিতিতে আমাদের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা চিন্তা করতে হবে। শহরের বস্তিগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যেসব বস্তি উঠিয়ে দেয়া সম্ভব, উঠিয়ে দিতে হবে। বস্তিবাসীকে নিজ গ্রামে ফেরত পাঠাতে হবে। তাদের পুনর্বাসনে কাজে লাগাতে হবে কিছু এনজিওকে। বস্তির মালিকদের বাধ্য করতে হবেযেন তাদের মালিকানাধীন বস্তিগুলোতে পানি টয়লেটের সুব্যবস্থা থাকে। খাসজমির বস্তিগুলোতে এসব ব্যবস্থা সিটি করপোরেশনকে করতে হবে। ঢাকার কথাবলছি। অন্য প্রধান শহরগুলোতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রত্যেক বস্তিতে শিার উদ্যোগ নিতে হবে। কিছু এনজিও সহায়তায় প্রত্যেক বস্তিতে বাকয়েকটি বস্তিকে ভিত্তি করে প্রাইমারি এবং বৃত্তিমূলক শিার ব্যবস্থা করা খুবই প্রয়োজন। তারা যাতে কাজে যায়, সেজন্য উদ্যোগ নিতে হবে। যত দিন কাজনা পাবে, এদের বেকার ভাতা দেয়া দরকার। শিা কাজ না দিয়ে বাস্তবে মাস্তানি থেকে উদ্ধার করা সম্ভব নয়।
অবশ্যই পুলিশের ভূমিকা অনেক বড়। মাস্তানি দমনে তাদের প্রচেষ্টা অবশ্যই চালাতে হবে। বিশেষ করে বড়লোকের সন্তান, অনেক েেত্র শিতি মাস্তানদেরব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। পুলিশ কর্তৃপ স্বয়ং তাদের সংযোগ প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন বস্তিতে স্কুল কিনিক প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং করাউচিত। বর্তমান আইজিপি ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারেন।
এখন নারী নির্যাতন ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চাই। সব ধরনের নারী নির্যাতনই বাড়ছে; যৌতুক সংক্রান্ত অপরাধ, এসিড নিপে, অপহরণ জোর করে বিবাহ ইত্যাদি। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে ধর্ষণ এবং ধর্ষণপূর্বক হত্যা। আমরা ব্যাপারে যথাযথ কৌশল (স্ট্র্যাটেজি) নির্ধারণ করতেপারছি না। এর কারণ, ধর্ম ধর্মীয় মূল্যবোধকে বাদ দিয়ে চিন্তাভাবনা এবং টিভি চ্যানেল বিজ্ঞাপনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে অনীহা। এদের বাদ রাখাহলে কোনো কৌশলই কাজ করবে না। আইন প্রোয়াজন (তা আছেও) পুলিশি পরতা আইন প্রয়োগ, মানসিক চিকিসা, মাদকসেবীদের পুনর্বাসন, অপরাধী যুবকদের কাজ দেয়া পুনর্বাসন সবই প্রয়োজন। এতে আমার বা সম্ভবত কারো ভিন্ন মত নেই। কিন্তু আমি মনে করি, যদি শিাব্যবস্থা মাধ্যমেনৈতিকতা ধর্মীয় মূল্যবোধ পুনর্বহাল করা না যায়, টিভি চ্যানেলে যদি নৈতিকতাবিরোধী অনুষ্ঠান-নাটক ইত্যাদি চলতেই থাকে, উপস্থাপিকারা যদি উগ্রপোশাক পরিধানের রেওয়াজ সৃষ্টি করেন, বিজ্ঞাপন যদি যৌন-উদ্দীপক হয় এবং কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকে, পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেয়াহয়, তাহলে নারী নির্যাতন ধর্ষণ কমানো কঠিন হবে। সত্যি বলতে কী, যখন বস্তি রাস্তায় মানুষ কিশোরদের (ঝঃববঃ ঈযরষফবহ) দেখি, তখনতাদের মধ্যে যাদের বয়স ১২ বা ১৩ বছর বা বেশি, এদের কাছে কোনো নারীই নিরাপদ মনে হয় না। তারা নারীদের যেকোনোভাবে নির্যাতন করতে পারেবলে আশঙ্কা হয়। উঠতি ধনী মাস্তানদের সম্পর্কে একই রকম মনে হচ্ছে। প্রশাসন দেশবাসীকে বলছি, অবিলম্বে ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তা না করলে সঙ্কট থেকে জাতির মুক্তির কোনো উপায় দেখি না।
লেখক  ঃ সাবেক সচিব,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার