বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০১১

আল কুরআন ও রক্তাক্ত ১১ মে = সালেহ আল ইমতিয়াজ


আল কুরআন বিশ্বমানবতার মুক্তির চির শাশ্বত ঐশী গ্রন্থএটি বিশ্বমানবতার মুক্তির সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাবএতে মানুষের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনের সকল দিক-নিদের্শনা রয়েছেআল কুরআনের বিধানই মানুষের স্থায়ী কল্যাণ ও পারলৌকিক জীবনের মুক্তির একমাত্র গ্যারান্টিএর কোনো বিধান পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংরণ মানুষের সাধ্যাতীতএটি সকল প্রকার ভুল ত্রটির ঊর্ধ্বেএই কুরআনের ভূমিকাতে তাই মহান রাব্বুল আলামীন ঘোষণা দিয়েছে,‘ এতে কোনো সন্দেহ - সংশয়ের অবকাশ নেই। ( বাকারা : ২)কুরআন নাযিলের সূচনাপর্ব থেকেই এর বিরোধীতা শুরু হয়েছেআবু জেহেল, ওতবা, শাইবা, প্রমুখ আল কুরআনকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার প্রাসাদসম ষড়যন্ত্র করেছিল তারা চেয়েছিল আল্লাহর নূর আল কুরআনকে ফুকার দিয়ে নির্বাপিত করতে কিন্তু আল্লাহ তার নূরকে উদ্ভাসিত করলেন’( সূরা আস সফ : ৮)
আল কুরআনের চ্যালেঞ্জ ঃ  জাহেলিয়াতের ঘোর অন্ধকারের অমানিশায় নিমজ্জিত মানুষ বিদ্বেষবতশ কুরআনের যাদু, কবিতা, মানব রচিত, জীন ভূতের প্রভাব, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ইত্যাদি অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেকিন্তু তাদের সব অভিযোগ ব্যর্থ হয়েছেআল কুরআন তাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলে, ‘কুরআন যদি কোনো মানুষের  তৈরি বলে মনে হয়, তাহলে অনুরূপ একটি সূরা তৈরি করে আনোঅদ্যবধি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণে মানুষ ব্যর্থ হয়েছে ভবিষ্যতেও পারবে নাআল কুরআন বলে,তোমরা পারোনি এবং (ভবিষ্যতেও কখনো পারবে না’ (সূরা বাকারা ঃ ২৪)
কুরআন বাজেয়াপ্তকরণ মামলা ঃ ১০ এপ্রিল ১৯৮৫ মাানবেতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায়মানুষ অজ্ঞতাবশত কুরআনের বিরোধিতা করতে পারে কিন্তু আল কুরআনকে বাজেয়াপ্ত করার মামলা দায়ের করার ধৃষ্টতা পৃথিবীতে কেউ দেখায়নিসেদিন পৌত্তলিকতার কেন্দ্রবিন্দু ভারতের দুই নাগরিক পদ্মমল চোপড়া ও শিতল সিং আল কুরআনের বিরুদ্ধে ভারতের হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেবিচারপতি পদ্ম খাস্তগীর এই মামলা গ্রহণ করেভারতের সংবিধানের ২২৩ নং ধারা সি.আর.পি.সি. ১৯৫ (ক) এবং ২৯৩ (ক) বিধান অনুসারে কুরআনকে ভারতীয় সংবিধানের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে এই রীট পিটিশন গ্রহণ করা হয় মামলার বিবরণে বাদীরা উল্লেখ করে কুরআনে এমন কিছু আয়াত রয়েছে যা কাফির ও মুসরিকদেরকে হত্যা, তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, যুদ্ধ করার প্রেরণা দেয়এই গ্রন্থ (তাদের ভাষায়) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্মদাতাঅতএব এর আরবি কপিসহ অনুবাদসমূহ বাজেয়াপ্ত করা দরকারবিচারপতি এই বিষয়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে এফিডেভিট প্রদানের জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি রুল জারি করেন
বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ: হাইর্কোটে এই নির্দেশ পরের দিন পত্রিকায় ছাপা হয়ভারতসহ সারা বিশ্বের মুসলমানরা প্রতিবাদ ও বিােভে ফেটে পড়ে১০ মে বায়তুল মোকররম মসজিদের দণি গেইটে প্রায় বিশ হাজার লোকের বিশাল প্রতিবাদ সভা ও মিছিল হয়
রক্তাক্ত ১১ মে : আল কুরআন বাজেয়াপ্তকরণের মামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশের সর্বত্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেসীমান্তবর্তী জেলা চাপাইনবাবগঞ্জের তৌহিদী জনতা প্রতিবাদ বিােভে ফেটে পড়ে এবং ১১ মে স্থানীয় ঈদগাহ ময়দানে সভার আয়োজন করেআল কুরআনের অবমাননা সইবে না আর মুসলমানস্লোগানে মুখরিত হয় জনপদনিস্তব্ধ জনপদে কুরাআনের স্পন্দন জেগে উঠেসমাবেশের পূর্ব মুহূর্তে তদানীন্তন সামরিক জান্তা সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেকিন্তু শাশ্বত কুরআনের জন্য যে জনতা জেগে ওঠেছে তাদের  দমিয়ে রাখা অসম্ভবতৌহিদী জনতা সামান্য সময়ের জন্য সমবেত হয়ে শুধু প্রার্থনা করার আবেদন জানায়কিন্তু নাস্তিকবাদী ম্যাজিস্ট্রেট প্রার্থনা করার অনুমতিও দেয়নিধর্মপ্রিয় জনতা আল কুরআনের আলো ঘরে ঘরে  জ্বালোস্লোগান দিতে শুরু করেতারা নারায়ে তাকবীর আল্লাহ আকবার স্লোগান দিয়ে সামনে অগ্রসর হয়আল্লাহর সার্বভৌমত্বে আকাশ বাতাস মুখরিত হলোএমন সময় পাষন্ড  ম্যাজিস্ট্রেট নিষ্ঠুরতার চরম সীমায় উপস্থিত হয় এবং পুলিশকে নির্বিচারে গুলি চালানো নির্দেশ দেয়
যারা শহীদ হলেন: পুলিশের নিমর্ম গুলিতে শীষ মোহাম্মদ, রাশিদুল হক রশিদ, সেলিম, শাহাবুদ্দিন, মুক্তার হোসেন, সবুর সহ আরো অনেকে শাহাদাতবরণ করেনআর আহত হন অসংখ্য মানুষ
আর-কুরআনের চিরন্তনতা:  সেদিন তারা শহীদ হয়ে আল কুরআনের মর্যাদা রায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেনতাদের রক্ত বৃথা যায়নিবাংলাদেশ সহ সারা বিশ্ব থেকে ভারতের ওপর চাপ প্রয়োগ হয়ভারতীয় সরকার আল কুরআনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি খারিজ করতে বাধ্য হয়এরপর থেকে বাংলাদেশে ইসলামপ্রিয় জনতার নিকট ১১ মে ঐতিহাসিক কুরআন দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছেআল কুরআনের স্রষ্টাই আল কুরআনের রক, তাই পৃথিবীর কোনো শক্তি কুরআনের বিন্দু পরিমাণ তিসাধন করতে পারবে না

সফল জীবনের জন্য = মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ্


মানবজাতির জীবন বলতেই তার একটি উদ্দেশ্য থাকা চাইউদ্দেশ্যহীন জীবনের নেই কোনো মূল্য, নেই কোনো প্রাপ্যজীবনের যেমন উদ্দেশ্য আছে, তেমনি উদ্দেশ্যেরও রয়েছে জীবন তথা জীবনময়তাঅর্থা উদ্দেশ্যের সততা ও মহত্ত্বতাই উদ্দেশ্য হতে হবে স ও মহ, যার ছত্রে-ছত্রে থাকে আদর্শের দীপ্তিজীবনের উদ্দেশ্য ও উদ্দেশ্যের জীবন তথা আদর্শ ও উদ্দেশ্যের শুদ্ধতা ও সততাই হলো সফল জীবনের মূলমন্ত্রউদ্দেশ্যময়তা ও অলসতা পরস্পরবিরোধী আচরণকখনো উভয়ের সম্মিলন হতে পারে নাযে ব্যক্তি জীবনের কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিয়েছে, তার পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ থাকে সে লক্ষ্যের দিকেসে এদিক-সেদিক মনোযোগ দিয়ে নিজের স্বর্ণের মতো মূল্যবান সময় নষ্ট করতে পারে নালক্ষ্য নির্ধারণ করে যে জীবন পরিচালনা করে, সে তীব্র বেগে ছুটে ঐ মুসাফিরের মতো যে প্রতিটি মুহূর্ত নিবিষ্ট থাকে আখেরি মনজিলের দিকে অগ্রসর হতেপৃথিবীর দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য তাকে মুগ্ধ ও প্রলুব্ধ করতে সামনে এসে দাঁড়ায়, কিন্তু সে দুচোখ বন্ধ করে পথ চলতে থাকে লক্ষ্যে পৌঁছার প্রত্যাশায়ছায়াশীতল বিশ্রামস্থান তাকে আরাম ও বিরামের জন্য উদ্বুদ্ধ করে, কিন্তু সে পথ চলতে থাকে মোহ-মুগ্ধতার স্বাদ ছেড়েবিচিত্র চাহিদা তার পথকে অবরোধ করে, কিন্তু সে সচল পদক্ষেপে এগুতে থাকে সকল বাঁধ-বাধার প্রতিরোধ করেজীবনের বিভিন্ন উত্থান-পতন, স্খলন ও পদস্খলন তাকে ঠেকিয়ে রাখতে চায়, কিন্তু তাতেও কোনো ছেদ পড়ে না তার ইচ্ছা ও প্রতিজ্ঞায়, তার দৃপ্ত পদচারণায়লক্ষ্য স্থিরকারী ব্যক্তি কখনো দিকভ্রান্ত হতে পারে নাকারণ, রাস্তা ও আখেরি মনজিল সম্পর্কে তার সুস্পষ্ট ধারণা থাকেসামনে থাকে তার একটি সুনির্ধারিত লক্ষ্যকখনো সে পথ থেকে ফসকে পড়ে নাঅসঙ্গত প্রসঙ্গ নিয়ে সময় নষ্ট করে নি®প্রাণ আনন্দে মেতে ওঠে নাসবদিক থেকে মনোযোগ হঠিয়ে শুধু একদিকেই সে মনোযোগ নিবদ্ধ করেলক্ষ্য অর্জন হওয়া ও আখেরি মনজিলে পৌঁছা পর্যন্ত তাকে থাকতে হয় কর্মচঞ্চল ও ব্যস্তসচলতাই জীবনকে সচল ও সফল করার জন্য প্রত্যেকেরই একটি সুচিন্তিত ও সুচিহ্নিত লক্ষ্য থাকা অনিবার্য, অপরিহার্যলক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এমন হওয়া চাই, যার সততা ও সত্যতার ওপর অন্তর পূর্ণ আস্থা রাখে, হৃদয় যাকে পরিপূর্ণভাবে সমর্থন করে এবং যা রক্তের মতো প্রতিটি রন্ধ্রে বিচরণ করেএই লক্ষ্য নির্ধারণই মানুষকে অন্যান্য জীব থেকে বিশিষ্টতা দান করেমনুষ্যত্ব ও পশুত্বের মাঝে বৈচিত্র্য ও বৈপরীত্যের দেয়াল তোলেউদ্দেশ্যের সঙ্গে আদর্শের এবং চিন্তার সঙ্গে কর্মের সংযোগ ঘটাতে হবেচিন্তা হতে হবে আদর্শিক, বাস্তবভিত্তিক ও কর্মমুখীআর কাজ হতে হবে চিন্তানির্ভর, ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখীচিন্তাহীন কর্ম ও কর্মহীন চিন্তা দুটোই অúূর্ণ ও অকার্যকরযে ব্যক্তির জীবনে লক্ষ্যের প্রতি একাগ্রতা ও একাত্মতা সৃষ্টি হবে, তার জীবন অবশ্যি অন্য এক জীবন হয়ে উঠবে, জীবন-সূর্য তার হৃদয়-আকাশে আলোর উদ্ভাস ঘটাবে

দুই.
মানুষের জীবন সে তো বিচিত্র অভিজ্ঞতার সমাহার তিক্ত ও মিষ্ট অভিজ্ঞতা দিয়েই স্থাপিত হয়েছে মানুষের সঙ্গে তার জীবন ও জগতের সেতু-বন্ধনবেদনার উত্তাল নদীতে তরী ভাসিয়ে, রক্তের অথৈ সমুদ্র পার হয়ে মানুষকে যেতে হয় জীবনের ওপারেÑ যে জীবন হবে পুষ্পিত, প্রাণিতজীবন-যাত্রার পথ সে তো বড় দুর্গম, যার বাঁকে বাঁকে রয়েছে শত ভীতি-ভয়, সতত শঙ্কা-সংশয়পথ-যাত্রায় মুহূর্তের অসতর্কতা ডেকে আনতে পারে অপূরণীয় য় ও মহা বিপর্যয়পথচলা ও পদচালনার অনভিজ্ঞতার কারণে মাশুল দিতে হয় পদে পদে, পথের প্রতিটি মোড়ে
জীবন-পথের অকুতোভয় অভিযাত্রী যারা, তাদের যাত্রা-পথ হতে পারে না মসৃণ ও কুসুমাস্তীর্ণতাদের পথ হবে অমসৃণ ও কণ্টকাকীর্ণতাদের পায়ে কাঁটা বিঁধেফোঁটা ফোঁটা রক্ত ঝরেতবুও ল্য-অভিমুখে তাদের কান্তিহীন পথ-চলা, বিরামহীন সংগ্রাম-সাধনা থামে না, থামতে পারে নাতাদের ভাগ্য-অভিধানে  আরামেরকোনো শব্দ নেইবিরামেরকোনো ছন্দ নেইনেই তাদের কোনো ছুটিতাদের নেই কোনো বিরতিতারা তো শৃঙ্খলমুক্ত বন্দী
বিপর্যয় এলে কিংবা পরাজয় ঘটলে মানুষ চিন্তার অতলে হারিয়ে যায়, বেদনার বালুচরে তলিয়ে যায়কিন্তু জীবন ও জগতের স্বভাব তো তা নয়জীবনের অঙ্গনে এগুতে হবে সকল ভয়কে জয় করেএই পৃথিবী তো সর্বাঙ্গ ভঙ্গুরএখানে ভাঙ্গবেপৃথিবীতে সংরণের অর্থ এই নয় যে, আমরা কোনো জিনিসকে কখনো ভাঙ্গতে দেব নাবরং সংরণের উদার অর্থ হলো, শত ভাঙ্গনের পরও সংরণের সুকৌশল জেনে নিতে হবে আমাদেরতাই নিরাশা ও হতাশার সকল বাঁধ-বাধা পেরিয়ে আমাদেরকে বাঁচতে হবে শেষ ও চূড়ান্ত হতাশা থেকেÑজীবন-ব্যর্থতার মরণ-থাবা থেকে
দুঃখ-বেদনার ঝড়োহাওয়ার মধ্যেও আনন্দের মৃদু হাওয়ার আশা আমাদের রাখতে হবেঅসফলতার হাতছানি উপো করে সফলতার পথ আমাদের খুঁজতে হবে, অভিনব পন্থা আবিষ্কার করতে হবেব্যর্থতার উত্তাল দরিয়া পাড়ি দিতে হবেতবুও আমাদের পৌঁছতে হবে সফলতার সবুজ পাড়ে, শিশিরস্নাত প্রান্তরেলাভ-লোকসানের অঙ্ক আগেই কষে নিয়ে পৃথিবীতে ব্যবসা (তথা উদ্দেশ্য) প্রতিষ্ঠা করা যায় নায়-শঙ্কার দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভেদ করে তীর-তীব্র বেগে চলতে হবে লাভ অর্জনের ল্েযÑসফলতা অর্জনের জাঁকালো অঙ্গনেজীবনের ময়দানে উন্নতি-অগ্রগতির আশা তাকেই সাজে যে পশ্চাদগামিতার ঝড়-ঝাপটা উপো করে অগ্রযাত্রাকে টিকিয়ে রাখতে পারে অটল পদেেপ, অবিচল পদেেপপ্রথমে হারাতে হবেহার মানতে হবেহারানোর পর সত্যিই আমরা পাব, কিন্তু প্রাপ্তি-অপোর প্রহর গুনতে হবেএখানে ঐক্য আছেআছে সর্বনাশা অনৈক্যওঅনৈক্য, মতানৈক্য আমাদের তাড়িত করে, অন্তর-জ্বালায় তাপিত করেসেই অনৈক্যের যাঁতাকল থেকে আমাদেরকে মুক্তি পেতে হবেকিন্তু কিভাবে? জীবন-গ্রন্থ থেকে অনৈক্যর পাঠ মুছে দিয়ে?  না, বরং শত অনৈক্যের মাঝেও আমাদেরকে রচনা করতে হবে ঐক্যের নতুন অধ্যায়সমাজের চিত্ত-পটে আঁকতে হবে একতার যুসই চিত্রঅর্জন করতে হবে অনৈক্যের মাঝেও ঐক্য গড়ে তোলার সুদতা ও শিল্প-কুশলতা
পৃথিবীতে গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ যেমন আছে, আছে তারুণ্য-ভরা বসন্তওএখানে ঋতু আছেআছে ঋতুর রূপবদলইতিহাস আছে, আছে ইতিহাসের পালাবদলঅমাবস্যা-রাতের ঘোর আঁধারি কাটিয়ে প্রভাত-মণি উদিত হয় নীলিম আকাশের পূর্ব দিগন্তেফুলের রাজা গোলাপরঙে ও রূপে অনন্য, যার গুণ-প্রশংসায়, যার রূপ-বর্ণনায় রঙিন হয়েছে কবি-সাহিত্যিকদের তুলি-কলম, সুশোভিত হয়েছে তাদের মন-মননশিল্পীগণ যার চিত্র এঁকেছেন মনের মাধুরী মিশিয়েশিল্প-চাতুর্যকে নানাভাবে খেলিয়েকিন্তু যে গাছে, গাছের যে ডালে এই সুকোমল ফুলটি ফুটে আছে, তারই সঙ্গে লেগে আছে অনেক বিষধর কাঁটাফুলকে কাঁটা থেকে বিচ্ছিন্ন করা, কাঁটা ছাড়া ফুল নেয়া আমাদের জন্য সম্ভব নয়ফুল নিতে হলে কাঁটার  ভেতর দিয়েই নিতে হবেএটাই স্রষ্টার অমোঘ বিধানজীবনের কাঁটাবনে প্রবেশ ছাড়া জীবনের পুষ্পায়ণ ও রূপায়ন সম্ভব হয় না, হতে পারে নাফুল ও কাঁটার সহাবস্থান যেমনি শাশ্বত সত্য, মানব জীবনে আনন্দ-বেদনার আলিঙ্গনও তেমনি স্বীকার্য-চিরায়তএই চির স্বীকৃত বাস্তবতায় রয়েছে মানব জীবনের জন্য চিরন্তন শিাসে শিা কিতাব-খাতা থেকে নয়, নিতে হবে ইতিহাসের পাতা থেকেজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে, ইতিহাসের স্মৃতি থেকে, দুনিয়ার প্রকৃতি থেকে এ-শিা আমাদের নিতে হবে ভাব ও ভাবনার নীরব ভাষায়, অনুভবের নিভৃত ধারায়গ্রীষ্ম-বসন্তের সংঘর্ষ, আলো-আঁধারির সংঘাত এরই মধ্য দিয়ে আলোকিত করতে হবে আমাদের জীবন-যৌবনগড়তে হবে স্বপ্নালু ভবিষ্যজীবনোদ্যানকে ফুটিয়ে তুলতে হবে ফুলে ও ফলে, ফসলে ও পাতাবাহারে
সত্যের পথের মুসাফির যারা, সফল জীবনের আলোর সন্ধানে তাদেরকে দুঃখ-দুর্দশা পোহাতে হবে পদে পদেসময়-স্রোতের উজান পাড়ি দিতে হবে জীবনের পথে পথে
তিন.
আল্লাহর দেয়া আমাদের এই পৃথিবী সম্ভাবনার আধারপৃথিবীতে এক যায়, এক আসেসুখে-সঙ্কটে কেটে যায় মানুষের দিন-রাতকালোর ওপর ভালোর এবং অসত্যের ওপর সত্যের জয় পূর্বেও যেমন ছিল, এখনো আছে; থাকবে চিরদিনপৃথিবীতে দিন যায়, রাত আসেসূর্যের আলো গিয়ে স্নিগ্ধ জোছনা আসেরাতের ঘনঘোর অন্ধকার কাটিয়ে প্রভাত নেমে আসেগ্রীষ্মের শুষ্কতা ফুরিয়ে বসন্তের সজীবতা ফুঠে ওঠেরাতের শেষে মৃদু আলো নিভে গিয়ে, পৃথিবী যখন অন্ধকারে হারিয়ে যায়, তখনো পৃথিবীকে আলোকিত রাখে এক রহস্যময় আলোÑ জোনাকির আলোপথে পথে, পথের দ্বারে; সবুজ প্রান্তরে অসংখ্য জোনাকিএই নেভে, ওই জ্বলেইতিহাসের পাতায়, স্মৃতির আয়নায় এখনো যাঁরা উজ্জ্বল হয়ে আছেন, প্রতিদিনের সূর্যোদয়ে তাঁরা নতুন দিনের সন্ধান পেয়েছেনযে দিনের সূর্যাস্ত চিরদিনের জন্য থেমে যাবে, হয়ত সে দিনই সুযোগ-সম্ভাবনার ইতি হবেকিন্তু পৃথিবীর বুকে যতদিন সূর্যের উদয় হবে, ততদিন মানবজীবনে সম্ভাবনার জয় হবেযে দিন পর্যন্ত সূর্য আপন আলোয় উদ্ভাসিত থাকবে, বুঝে নিতে হবে, এখনো সুযোগ আছে কিছু করার, এখনো সময় আছে পায়ে পায়ে এগিয়ে যাওয়ার
যে কোনো জাতি ও জনগোষ্ঠীর উন্নতি-অগ্রগতির সম্ভাবনা কখনো সমূলে শেষ হয়ে যায় নাপ্রত্যেক মানুষ ও প্রতিটি জনপদের ভাগ্যে রয়েছে উন্নতির তারাভরা আকাশ, পূর্ণিমায় ভরা উদ্ভাসযুগের দুর্যোগের কারণে যদি কারো সাময়িক পতন ঘটে, তা হলে চরমভাবে হতাশ হয়ে যাওয়ার এবং নিজেকে হারিয়ে ফেলার কোনো কারণ নেইস্রষ্টা এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন অভূতপূর্ব ও অভাবিতপূর্ব সম্ভাবনা দিয়েজমিনের বিশালতায়, আকাশের উঁচুতায়, পাহাড়ের দৃঢ়তায় ও সাগরের গভীরতায় মানুষের জন্য রয়েছে অসংখ্য সম্ভাবনাপ্রয়োজন শুধু বিবেক-বুদ্ধিকে কাজে লাগাবার, আবেগ-উদ্বেগকে সংযত করার এবং চিন্তা-চেষ্টাকে প্রাণিত করারউন্নতির জন্য আজ মানুষ বিকিয়ে দিচ্ছে অমূল্য জীবন-যৌবন, বিলিয়ে দিচ্ছে সমুদয় অর্জন-উপার্জনমনে রাখতে হবে, উন্নতি এত দুরূহ নয়, তবে শ্রমসাধ্য বটেসময়-সুযোগের যথাযথ, সংযত, যুগোচিত ও বাস্তবোচিত ব্যবহারই হলো কালজয়ী উন্নতির উসমূল
উন্নতির স্বর্ণশিখরে পৌঁছুতে হলে শিক্ষা নিতে হবে অতীত থেকে, কাজে লাগাতে হবে বর্তমানকে, প্রাপ্তির আশা রাখতে হবে ভবিষ্য থেকেযে ব্যক্তি অতীত ভুলে যায়, বর্তমানকে হারায় অলসতায় এবং ভবিষ্য সম্পর্কে নিজেকে মনে করে অসহায়, তার সফল হওয়ার কী আছে কোনো উপায়? তাই দ্বিধা-বাধার ঘোর কাটাতে হবেঅলসতার জটাজাল ছিন্ন করতে হবেআশা-আশঙ্কার সংঘাতে যদি নিজেকে হারিয়ে ফেলে, নিষ্পেষিত হয় যদি হীন যাঁতাকলে, তা হলে সে নিশ্চয় হারায়, বঞ্চিত হয়পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পথের ঝুঁকি ও মনের উঁকি-ঝুঁকি উপেক্ষা করে, বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলে সে সফল হয়, সে সুফল হয়
সত্যের পথের মুসাফির যারা, আল্লাহর সব সৃষ্টি তাদের জন্য, তারা আল্লাহর জন্যএ-সত্যকেই পাথেয় বানাতে হবে পদে পদে, জীবনের পথে পথে
সকলপ্রকার বাধা-বিপত্তি দূর করে আমাদের ক্রমাগত সামনে এগিয়ে যেতে হবেকবির ভাষায় :
‘‘ছিঁড়ে যাক পাল, ভেঙে যাক হাল
আসুক তমসা ঘোর,
সপ্তসিন্ধু পাড়ি দিয়ে তবু
আনতেই হবে নতুন ভোর

শুরু হোক সুস্থ্য সংস্কৃতির বিকাশ = মোহসেনুল মান্না


গত এপ্রিল মাসের শিাঙ্গন পত্রিকায়  চারটি প্রবন্ধ দেখলামপ্রবন্ধগুলো ছিল যথাক্রমে সালেহ উদ্দিন জহুরীর লেখা নৈতিক মূল্যবোধের অবয় ও আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব’, সাবেক সচিব শাহ আব্দুল হান্নানের লেখা ইসলামী সংস্কৃতির মূল বৈশিষ্ট্য তাওহীদ’, মোহাম্মদ আশরাফ আলীর লেখা আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির রায় পশ্চিমা সংস্কৃতির আমদানী বন্ধ করা দরকার’,মুহাম্মাদ নুরুদ্দিনের লেখা সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কবলে মুসলিম বিশ্ব-ইহুদী খ্রীস্টান চক্রের সূদুর প্রসারী ষড়যন্ত্রউল্লেখ্য এপ্রিল মাসের শিাঙ্গনে মোট বিশটি আইটেমে লেখা ছিলএর মধ্যে ৫-৬ টি ছিল নিয়মিত আইটেমবাকী আইটেমগুলোর মধ্যে চারটিই সংস্কৃতিকেন্দ্রিকএটা  দেখে কোনো নতুন পাঠক ভেবেও বসতে পারেন যে শিাঙ্গন হয়ত কোনো সংস্কৃতি গবেষণা মূলক পত্রিকাযে যাই ভাবুক আমার কাছে কিন্তু অত্যন্ত ভালো লেগেছে এবং এতই ভালো  লেগেছে  যে এই প্রথমবারের মত শিাঙ্গনে লিখতেও বসলামএর আগেও কয়েকবার শিাঙ্গনে লেখা দেবার জন্য লিখতে বসেছিলাম কিন্তু শেষ করতে পারিনিশিাঙ্গনের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ভাইয়ের সাথে থাকার সুযোগ হয়েছিলোতখনও  লেখার জন্য আগ্রহ জন্মেছিল কিন্তু  লেখা হয়নিরাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে রাজনীতি বিষয়েও লিখতে চেয়েছিলাম তাও শুরু করে আর শেষ করতে পারিনিপ্রিয় পাঠক দোয়া করবেন আজ যেন শেষ করতে পারিপ্রিয় পাঠক উপরোক্ত চারটি প্রবন্ধের সারমর্ম তৈরি করা নিশ্চয়ই নীরস বাস্তব জগত  থেকে রসালো শিল্প ও সাহিত্য তৈরী করার মত কঠিন কাজতথাপিও যারা উপরোক্ত প্রবন্ধগুলো পড়েননি তাদের সুবিধার্থে বলছি- ইসলামী সংস্কৃতি, এর গুরুত্ব, অপসংস্কৃতির খারাপ দিক এগুলোই বিভিন্নজন বিভিন্ন উদাহরণের আলোকে এবং বিভিন্ন উস থেকে রেফারেন্স দিয়ে আলোচনা করেছেনপ্রিয় পাঠক প্রত্যেক লেখকই হয়ত একটা মাথা ব্যথা নিয়ে লিখতে বসেনএকটু ল করুন অপসংস্কৃতির প্রবল আগ্রাসনই উপরোক্ত  লেখকদের মাথায় একটা ব্যাথার সৃষ্টি করেছে আর তাই তারা লিখতে বসেছেনকিন্তু তাদের মূল্যবান  লেখাগুলো আমার  চেতনায় আঘাত দিয়ে আমারও মাথায় একটা ব্যথার সৃষ্টি করেছেআর তা হল অপসংস্কৃতির এই আগ্রাসন থেকে বাচাঁর জন্য এবং জাতিকে বাচাঁবার জন্য আমাদের করণীয় কি? কি কি কর্মপন্থা আমাদের নির্ধারণ করতে হবে? এই প্রশ্নের সুস্পষ্ট জবাব উপরোক্ত লেখাগুলিতে নেইঅন্ততঃ এই একবিংশ শতাব্দীতে যেখানে অপসংস্কৃতির আগ্রাসন প্রতিদিন নতুন নতুন মাত্রা লাভ করছে সেখানে আমাদের করণীয় বিষয়ে কোনো গ্রন্থও বর্তমান নেইতবে মাঝে মাঝে অনেক সংস্কৃতি কর্মীর বক্তব্যে এ বিষয়ে কথা শুনেছিএই লেখাটিতে আমি অপসংস্কৃতির আগ্রাসন, এর ধরণ-প্রকৃতি প্রভৃতি নিয়ে কোনো আলোচনা করব নাএখানে শুধু   আগ্রাসন প্রতিরোধে দুটি উপায়ের আলোচনা করব
প্রথমেই বলে রাখা প্রয়োজন যে অপসংস্কৃতির আগ্রাসন শুধু বাংলাদেশে নয় এটি মুসলিম অমুসলিম সকল দেশে সমান তালে চলছেদাজ্জাল যেমন সমস্ত পৃথিবীকে একটি চামড়া দিয়ে আচ্ছাদিত করে রাখবে বা রেখেছে অপসংস্কৃতি  তেমনই গোটা পৃথিবীকে আচ্ছাদিত করে  রেখেছেএর ভিত্তিমূল অনেক গভীরে প্রোথিতএই সংস্কৃতির ভিত্তিমূল শুধু সংস্কৃতির মধ্যেই নয় বরং এর ভিত্তিমূল অর্থনীতি ও রাজনীতির গভীরে প্রোথিততাই এর বিরুদ্ধে লড়তে হলে সেরকম সাজ সরঞ্জামে সজ্জিত হয়েই লড়তে হবেএটা বর্তমানে এমন অবস্থানে গিয়েছে যে সাধারণ কিছু প্রবন্ধ লিখে বা এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে একে রোধ
করা সম্ভব নয়
অপসংস্কৃতির আগ্রাসন প্রতিরোধে আমাদের করণীয় দুটি কাজ হলঃ
সংস্কৃতি চর্চা
বহুজাতিক কোম্পানির পণ্য বর্জন
সংস্কৃতি চর্চাঃ
এই ব্যাপারে কথা বলার আগেই বলে নিই সংস্কৃতির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে জনৈক সমাজবিজ্ঞানী বলেছেন আমরা যা করি তাই আমাদের সংস্কৃতিসেই হিসেবে দেখবেন আমাদের দেশের বেশীরভাগ মানুষ যা করে হোক সে মুসলমান বা হিন্দু তারা ভালো কাজই বেশী করেআর ভালো কাজ করে  এর মানে হচ্ছে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করেআমাদের দেশের মানুষের জীবন যাপনের সংস্কৃতি, চলাফেরার সংস্কৃতি, পারিবারিক সংস্কৃতি, কেনাকাটা ও লেনদেনের সংস্কৃতি, পোশাক আশাকের সংস্কৃতি প্রভৃতি খুবই ভালো এবং শালীনযদিও রাজনৈতিক সংস্কৃতি অত্যন্ত নিম্নমানেরসুতরাং আমরা যা করি তা ভালোআপনারা ল করে দেখবেন যে স্থানটিকে আপনি অপসংস্কৃতির আঁখড়া বলে আখ্যায়িত করবেন সেটি হল আমাদের চলচ্চিত্রকেসেখানেও আপনি দেখবেন কোনো মেয়েলোক যিনি মিনি স্কার্ট আর ওড়না ছাড়া টপস পরে অভিনয় করেন তিনিও তার বাস্তব জীবনে এরকম ড্রেস পরেননাসাধারণভাবে তাদের চলাফেরা যদি কেউ দেখে থাকেন তাহলে দেখবেন সেটা মোটামুটি শালীনআরও কিছু উদাহরণ যেমন লিভ টুগেদারের কথা বলা যেতে পারে সেটাও বাংলাদেশে নেইএমন না আছে তবে তাও শতকরা হিসেবে জিরো পয়েন্ট সামথিং ও হবেনাকিন্তু সম্প্রতি আমরা দেখেছি ফারুকীর থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার ছবিতে এটাকে এমনভাবে দেখানো হয়েছে যেনো এটা আবহমানকাল ধরে চলে আসছেসামাজিক অসঙ্গতি অবশ্যই নাটক,গান,সিনেমার মধ্যে অবশ্যই আসবে তবে তা পজিটিভলি নয় যাতে দর্শক স্রোতারা তা গ্রহণ করে
প্রিয় পাঠক উপরোক্ত কথা গুলো এজন্যই বললাম  কারণ আমরা যা করি তা মোটামুটি ঠিকই আছে কিন্তু সমস্যা হল যা করি    তা উপস্থাপনের েেত্রআমরা যা করি অর্থা আমাদের সংস্কৃতি উপস্থাপনের ত্রেগুলো হল মিডিয়া বা টিভি চ্যানেলগুলো, সিনেমা, থিয়েটার,সঙ্গীত প্রভৃতিকিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে এই ত্রে গুলোতে আমাদের যাতায়াত অত্যন্ত সামান্যআমদের যাতায়াত এতই সামান্য যে আমাদের দু একটি মিডিয়া থাকলেও সেখানে আমাদের কোনো পদচারণা নেইআপনি বলবেন আমাদের একটা টিভি চ্যানেল আছেকিন্তু সেখানে দেখুন খবরটি ছাড়া আপনার আর কিছুই নেইতাও ৩০ মিনিট খবরের মধ্যে ৩ মিনিট আপনারওই চ্যানেলটা আপনার একথা আপনি তখনই বলতে পারবেন যখন ওখানকার শুধু কর্মকর্তা কর্মচারীই নয় বরং অনুষ্ঠান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবগুলো আপনারএমনকি অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে যে এডভারটাইজ দেয়া হয় তাও আপনার বানানো এবং আপনার শিল্পীদের করা
প্রিয় পাঠক এ হচ্ছে একটি চ্যানেলের কথা যেটা আপনি আপনার বলে দাবি করেন সেখানেও আপনি যাদের আশা করেননা তাদের পদচারণাবাকি গুলোর কথা না হয় বাদই দিলামআমাদের এই দুরবস্থার কারণ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমাদের স্বল্প পদচারণাআমি আমার সংস্কৃতি মানুষের কাছে প্রদর্শনের ব্যবস্থা না করে শুধুমাত্র আইন করে বা অপসংস্কৃতির খারাপ দিক বর্ণনা করে অপসংস্কৃতির অগ্রযাত্রা কোনোদিনই ঠেকাতে পারব নাযা কিছু ভালো তাই ইসলামসুতরাং ভালো সংস্কৃতিই বলুন বা ইসলামী সংস্কৃতির কথাই বলুন সেখানে আমাদের পদচারণা বাড়াতে হবেচিত্রনায়ক আবুল কাশেম মিঠুনকে প্রায়ই বলতে শুনি আজকে যারা রাজনৈতিক ভাবে বিজয়ী তাদের এ বিজয় মূলত সাংস্কৃতিক বিজয়
প্রিয় পাঠক সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে সবসময়ই সকল শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারেআগামীতে সুযোগ  পেলে অপসংস্কৃতির আগ্রাসন রোধে বহুজাতিক কোম্পানীর পণ্য বর্জনের বিষয়ে লিখব ইনশাআল্লাহমহান আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি সংস্কৃতি চর্চার তাওফীক দিনআল্লাহ হাফেজ

লেখক : থিয়েটার পরিচালক
          নিমন্ত্রন সাংস্কৃতিক সংসদ  

অঙ্কুরিত স্বপ্ন= জুবায়ের হুসাইন


আরে সাইফু দোস্ত যে!পেছন থেকে কে যেন বলে উঠল
ভাবনার তারটা টুন্করে ছিঁড়ে গেল সাইফুলেরজাস্ট একটা ছন্দপতন হলো যেনঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকালপ্রথমে চিনতে পারল নাতারপর ক্রমে ওর সমস্ত চেহারায় খুশির একটা রং খেলে গেলআনন্দে প্রায় লাফিয়ে উঠে গিয়ে দাঁড়াল আগন্তুকের সামনেতারপর দুহাত প্রশস্ত করে তাকে টেনে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলআর বলতে থাকল, ‘দোস্ত হাবুল, কিরম আছিসরে তুই? কত দিন পর দেখা কতো? ওহ্! আমার যে কী ভালো লাগতেছে, তা তোরে বুঝায় কতি পারবো নাআয়, বয় (বোস)আজ পরান খুলে গল্প করবো দুই দোস্ত
একনাগাড়ে এতগুলো কথা বলে তারপর থামল সাইফুলহাবুলকে প্রায় টেনে শিমুল গাছের মোটা শিকড়টার ওপরে বসালনিজেও পাশে বসল
হাবুল এতক্ষণ হতভম্ব হয়ে ওর কথা শুনছিল আর কান্ড-কারখানা দেখছিলএক্ষণে বলল, ‘এই যে একসাথে এত্তোগুলো কথা কলি, আমি এখন কোনটে থুয়ে কোনটের জবাব দেব তুই-ই কয়ে দে
দোস্ত, তুই রাগ করিছিস হাবুল? আসলে হয়েছে কী...
থাক থাক, তোরে আর কিছু কতি হবে নাসাইফুলকে থামিয়ে দিয়ে বলল হাবুলশুনলাম তুই আইছিস, তাই আর থাকতি না পেরে দেখা কত্তি আসলামতা থাকবি কয়দিন?’
এবার সহজেই যাচ্ছিনেরে হাবুলবলল সাইফুললম্বা ছুটি নিয়ে আইছিএকটা বিশেষ কাজে আইছি কি-না!
ও!
বলেই কেমন যেন আনমনা হয়ে গেল হাবুলসাইফুল তা খেয়াল করল নাওর যেন আজ কথার জোয়ারে পেয়ে বসেছেতাই বলে চলেছে, ‘আসলে ঢাকা শহর এখন আর বসবাসের উপযোগী নেই রে দোস্তচারিদিকি খালি গ্যাঞ্জাম আর গ্যাঞ্জামসারাদিন গাড়িঘোড়ার শব্দ শুনে শুনে কানটাই গেছে নষ্ট হয়েকোনো কাজের উদ্দেশ্যে রাস্তায় বের হলি ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যাম আর সিগনালে পড়ে থাকতি হয়তুই যদি নির্দিষ্ট সুমায় কোথাও যাতি চাস, তালি অন্তত দুই ঘণ্টা আড়াই ঘণ্টা সুমায় হাতে নিয়েই তবে বেরোতি হবেযত না সূর্যের তাপের গরম, তার থেকে বেশি গরম মানুষের জন্যি, বুঝলি? চারপাশে খালি মানুষ আর মানুষগিজগিজ গিজগিজ করেআর উঁচো উঁচো দালানের কথা তো কয়াই লাগে নাএকটার সাথে যেন আরেকটা পাল্লা দিয়ে খালি উপরের দিকি উঠতি চায়কয়দিন আগেই তো খবরের কাগজে আর টিবিতে দেখিছিস কয়টা দালান হেলে পড়েছেলোকজন সব সেখান থেকে পলাচ্ছেবিশ্বাস কর, তুই শত চিষ্টা করেও নীল আকাশের দেখা সেখেনে পাবিনেপেজা তুলোর মতো সাদা মেঘের উড়ে বেড়ানো আর তার সাথে গাংচিল ও সাদা বক কিংবা অচিন পাখির উড়ে যাওয়া দেখার আশা তো দুরাশাইপাখির ডাক? উঁহু, কক্ষনো সে চিন্তা করাও যাবে নাতবে একটা পাখির ডাক তুই ঠিকই শুনতি পাবিতো কী পাখি...পাশ ফিরে হাবুলকে অন্যমনস্ক দেখে কথা বলা থামিয়ে দিলজিজ্ঞেস করল, ‘এই হাবুল, দোস্ত, তুই কি আমার কথা শুনছিসনে? দূর! এতক্ষণ তালি আমি কার সাথে কথাগুলোন কলাম? হাবুল, এই হাবুল?’
ওকে ধরে ঝাঁকি দিল সাইফুলতাতে যেন সম্বি ফিরে পেল হাবুলবলল, ‘উঁ! না মানে হঠা যে কী হলো না, আমি যেন কেমন, মানে...
অবাক হলো সাইফুলশঙ্কিত হয়ে উঠলচেহারায় তার পূর্ণ অভিব্যক্তি ফুটে উঠলবলল, ‘কোনো প্রবলেম দোস্ত? বি তো, আমারে তো সব খুলে কবি নাকি!
না কিছু না, ওই হয়েছে কী, আসলে...আমতা আমতা করতে লাগল হাবুল
দেখ,’ বলল সাইফুলআমি গিরামে আইছি একটু রেস্ট নিতিখোলা আকাশের নিচেই নির্মল বাতাসে নিঃশ্বাস নিয়ার জন্যি আমি সেই ঢাকা থেকে ছুটে আইছিএই সেই শিমুল গাছ, শীতির ভোরে যে গাছের তলা থেকে ফুল খুটে নিয়ে গিছি সুমার মারে খাওয়ানোর জন্যিসুমার মা ছিল আমাদের সবচেয়ে ভালো ছাগলডাপ্রতি বছর তিনটে করে বাচ্চা দিত ছাগলডাএই পুকুরি কতো সাঁতার কাটিছি আমরা, ডুব দিয়ে ধরাধরি খেলিছিআর কাটা ঘুড়ির পিছনে ছুটতি ছুটতি উঠে গিছি কুঞ্চি ভরা বাঁশ গাছেএকবার মনে আছে, এই শিমুল গাছের সবচেউপরের ডালে বাঁধল তে-রঙা ঘুড়িডা? তুই আমারে জোর করে ঠেলে উঠিয়ে দিলি গাছেহাঁচড়ে-পাঁচড়ে আমি ঠিকই উঠে গিলামতারপর যখন ডাল থেকে আলগা করে ঘুড়িডা নিচেই ছেড়ে দিলাম, তখন সেটা তোর হাতে না গিয়ে পড়ল পুকুরডার মধ্যিখানেআমি কানতি কানতি গাছ থেকে নেমে আসলামতুই আমারে সান্ত্বনা দিলি।...
আরও অনেক কথাই বলত হয়তো সাইফুল, কিন্তু হাবুলের থমথমে মুখের দিকে তাকিয়ে আর কিছু বলতে পারল নাফ্যালফ্যাল করে বন্ধুর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল কয়েক মুহূর্ততারপর জিজ্ঞেস করল, ‘খারাপ কিছু হয়েছে তোর?’
হাবুল মুখে কোনো কথা না বলে উপর-নিচ মাথা নাড়াল কেবল
সাইফুল বলল, ‘আমারে কবি কী হয়েছে?’
তি ইচ্ছে কচ্ছে না
তালি আমার সামনে মুখ গুমড়া করে রইছিস কেন? তুই কি চাস আমি আজই ঢাকায় চলে যাই?’
না
তালি চল, গিরামডা একটু ঘুরে আসি
কনে কনে যাতি চাস তুই?’
সব জায়গায়, আমরা একসাথে যেখেনে যেখেনে যাতাম, সেই সব জায়গায় যাবআমার তো অনেক জায়গার কথা মনেই নেইতোর তো মনে আছেকোনো জায়গা বাদ দিবিনে কিন্তু, সব জায়গায় নিয়ে যাবিআর যাতি যাতি তোর কথাও শোনবো। ...চল এবার
উঠে দাঁড়াল সাইফুলউঠল হাবুলওতারপর হাঁটতে শুরু করল
সাইফুল আর হাবুল, এক সময় খুবই ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল ওরাওদের আর এক বন্ধু ছিল রনি, বছর তিনেক হলো ক্যান্সারে মারা গেছেএই তিনজন মিলে একসময় গ্রামটাকে মাতিয়ে রাখতগ্রামের লোকেরা যেমন ওদের নিয়ে অতিষ্ট হতো, তেমনি উপকারও পেততাই ওদের বিরুদ্ধে শত নালিশ থাকলেও সবাই বেশ পছন্দই করত ওদের
রনিটা বেশ রোগা ছিলএকেবারে টিংটিঙে শরীর ছিল ওরসাইফুল তো ঠাট্টা করে প্রায়ই বলত, ‘তোকে ফেলে দিতি কোনো ঝড় লাগবে নারে রনি, ফাঁকা মাঠে দাঁড়ালি হালকা একটু বাতাসেই তুই চিপটাং হয়ে যাবি
এহ্,’ সাইফুলের কথা শুনে বলত রনিবললিই হলো! এই আমি শক্ত হয়ে দাঁড়ালাম, মার তো ধাক্কা দেখি ফেলতে পারিস কি না?’
সাইফুল কিন্তু ওকে ধাক্কা মারত নাপাছে সত্যিই পড়ে যায়আসলে বন্ধুকে ও ছোট করতে চাইতো না কখনওএই বিষয়ে যখন প্রায়ই ওদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হতে থাকল, তখন একদিন অনেকটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও ধাক্কা মারল সাইফুলধাক্কাটা বেশ জোরে না হলেও মোটামুটি জোরে ছিলকিন্তু কী আশ্চর্য! তালপাতার সেপাই রোগা পটকা রনিকে একচুল নড়াতে পারল না ওএরপর থেকে ওকে খেপানো বাদ দিতে হলো ওকে
একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল সাইফুলবলল, ‘তোর মনে আছে হাবুল, যেদিন আমি ধাক্কা মেরে রনিটারে একচুলও নড়াতে পারলাম না, সেদিনই ও বলেছিল, ‘তুই আমারে ফেলতি পাল্লিনে ঠিক আছেকিন্তু দেখিস, আমি ঠিকই একদিন পড়ে যাবসেদিন তুই হাজার চিষ্টা করেও আমারে উঠানো তো দূরির কথা, সুজা করেই রাখতি পারবিনেআমি ওর কথা হেসেই উড়িয়ে দিলামও তখন বলল, ‘আমি সত্যিই একদিন তোদের ছেড়ে চলে যাবরে দোস্তসেই দিনটির কথা মনে হলি আমার খুব কান্না পাইআমি আর বাঁচবো নারে সাইফুলহাবুল, আমি, আসলে...
সাইফুলের চোখের কোণটা ভিজে উঠলনিজের অজান্তে দু  বেয়ে দুফোঁটা তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে নেমে গেলসে অশ্রুটুকু মোছার কোনো চেষ্টা না করেই বলল, ‘ও একদিন ঠিকই আমাদের সবাইরে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলসত্যিই ওরে সুজা করে রাখা গেল নাআমি তো ওরে শেষ দেখাডাও দেখতি পাল্লাম নাআমি, আমি ওর এই কবরের সামনে দাঁড়ায় স্থির থাকতি পাচ্ছিনেরে হাবুলআমি, আমি....
আর কোনো কথা বলতে পারল না সাইফুলকান্নায় ওর কণ্ঠ বুজে এল
হাবুল ওকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, ‘রনির জন্যি আমারও মেলা খারাপ লাগেকিন্তু আমাদের কিইবা করার ছিল কওর ভিতরে যে কঠিন রোগ ডানা বেঁধে উঠছিল তাকি ও কাউরে জানতি দিয়েছে? দেয়নিএখন আর কেন্দে লাভ নেইতারচেআয়, ওর জন্যি আমরা মাবুদের দরগায় দুয়া করি, ও যেন পরকালে সুখি থাকে
দুহাতের তেলো দিয়ে চোখের পানি মুছল সাইফুলতারপর দুহাত তুলে প্রিয় বন্ধুর জন্য প্রভুর দরবারে ধরনা দিলএবার শুধু সদ্য শুকানো দুগ ই না, সমস্ত মুখ-বুক ভাসিয়ে ফেলল চোখের নোনা পানিতে
* * *
আজ রাতের বাসেই ঢাকা যাবে সাইফুলযাবার আগে হাবুলের সাথে দেখা করলএর আগেই ও হাবুলের সমস্যাটার কথা জেনেছেকিছু পরামর্শও দিয়েছেআজ চূড়ান্ত একটা পরামর্শ দিয়েই তবে ঢাকা যাবে বলে ঠিক করেছেতাই এই দেখা করা
গ্রামে হাবুলের একটা মুদি দোকান আছেবুড়ো বাপ এখন আর পেরে ওঠেন নাতিনি সমর্থ্য থাকতে হাবুলকে সংসার নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হয়নিকিন্তু একটা ব্রেন স্ট্রোকের পর শরীরের বাঁপাশটা প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ার পর সংসারের হাল তাকেই ধরতে হয়তাছাড়া পরিবারে একটা মুখ বেড়েছে, এখন তার মুখেও খাবার জোগাতে হয়তাই একপ্রকার অনিচ্ছাসত্ত্বেও বাবার মুদি দোকানটা ওকেই দেখাশোনা করতে হয়নইলে ইচ্ছা ছিল শহরে গিয়ে কোনো ব্যবসা-ট্যবসা করবেসেজন্য কিছু পুঁজিও ম্যানেজ করেছিলকিন্তু এখন সেসব চিন্তা একপ্রকার বাদ দিয়ে বাবার দোকানটা নিয়েই পড়েছেবাবার ওষুধ আর ছেলের ডাক্তার খরচ দিতে দিতে হাবুলের এখন অবস্থা খুবই খারাপশহরে গিয়ে ব্যবসা করার জন্য যে পুঁজিটা ও সংগ্রহ করেছিল, সেটাও শেষ হয়ে গেছে কয়েক মাস হলোতাই এর ওর কাছ থেকে ধারদেনা করে দোকানে মাল তুলল কয়েক মাসকিন্তু পুঁজি ধরে রাখতে পারল নাফলে দিনে দিনে দেনা বাড়তে লাগল ওর
আলিমুদ্দিন দফাদার গ্রামের একজন বেশ সমর্থ্য মানুষবিপদে-আপদে গ্রামের মানুষ সবার প্রথমে তার কাছেই ছুটে যায়হাবুলও গিয়েছিলতবে কথা হয়েছিল, সামনের আমন সিজনে ধান কাটার সময় টাকাটা শোধ দিতে হবেএখন সেই সময় প্রায় চলেই এসেছেইতিমধ্যে বার দুই তাগাদাও দিয়েছে আলিমদ্দিওদিকে অন্য পাওনাদারেরাও টাকার জন্য চাপ দেয়া শুরু করেছেদুই-তিন দিন ধরে ছেলেটার কাঁশিও দেখা দিয়েছেশহরে নিয়ে গিয়ে ডাক্তার দেখাতেও বেশ টাকা লাগবেসব মিলিয়ে বেশ ঝামলোয় পড়ে যায় হাবুলঅবশেষে উপায়ন্তর না দেখে অভিনয়টা করতেই হলো ওকেগ্রামের দক্ষিণের যে লম্বা দুটো তালগাছ নিয়ে বিভিন্ন কাহিনী লোকের মুখে মুখে প্রচলিত আছে, সেই তালগাছকে উপলক্ষ করে একটা কেচ্ছা বানিয়ে ফেলল ওএতে অন্তত কিছুদিন পাওনাদারদের তাগাদা থেকে রেহাই পাওয়া যাবেসেই অনুযায়ীই সেদিন রাতে ওখানে ভূতের ভয় পেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকার ভান করলমিরাজকে সাথে নিয়ে এমনভাবে কাজটা সম্পন্ন করল যে, মিরাজও একেবারে বিশ্বাস করে ফেলল যে হাবুলকে সত্যিই ল্যাংড়া জিনে আঁছড় করেছেসে তাই সফলভাবেই বিষয়টা গ্রামময় প্রচার করে দিলকিন্তু বাঁধ সাধল আলিমদ্দি দফাদারঘটনার কথা শুনে সে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারেনিতাই তো ছুটে এসেছে হাবুলের বাড়ি এবং কৌশলে সব বের করে নিয়েছেএখন তাই মহা ঝামেলায়ই পড়ে গেছে হাবুলআর কারোর না হোক, দফাদারের টাকাটা ওকে শোধ করতেই হবেঅবশ্য সাইফুলকে সব বলতে চায়নি ওকিন্তু সাইফুল নাছোড়বান্দার মতো খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে সব জেনে নিয়েছে
এখেনে হাজার চল্লিশের মতো টাকা আছে,’ পাঁচশ টাকার একটা বান্ডিল হাবুলের জামার পকেটে গুঁজে দিয়ে বলল সাইফুলআলিমদ্দি দফাদারের টাকাটা আগে দিয়ে দিসতারপর বাবুরে শহরে নিয়ে গিয়ে ভালো একটা ডাক্তার দেখাবিএরপর অন্যদের টাকা শোধ দিবিমনে হয় তারপরেও কিছু টাকা বেঁচে যাবেনেতা দিয়ে দুকানে মাল তুলিস
হাবুল প্রথমে কিছুই বলতে পারে নাকেবল ফ্যালফ্যাল করে বন্ধুর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেতবে তার সে চোখে শূন্য দৃষ্টি
তা দেখে সাইফুল আবার বলল, ‘আরে কী দেখতিছিস এমম করে?’
না মানে তুই, মানে তোর টাকা...
ও এই কথা? আরে দোস্ত, আমি তো একটা ঘর তুলার জন্যি টাকাটা নিয়ে আইলামতুই তো বউ-ছওয়াল নিয়ে ভালোই আছিস, আমিও চাইছিলাম তোর একটা ভাবি ঘরে আনতিকিন্তু টাকাটা তো তোর এখন খুবই প্রয়োজনআগে তো তোর প্রয়োজনটা মিটুক, ঘরটা না হয় আরও কিছুদিন পরেই হবেনে, আর তোর ভাবিও ততদিন অপেক্ষা কত্তি থাকুক
দোস্ত আমি তোর এই ঋণ কোনোদিন শোধ কত্তি পারব নাচোখজোড়া ছলছল করে উঠল হাবুলের
দুহাতে হাবুলের দুকাঁধ ধরে মৃদু ঝাঁকি দিল সাইফুলবলল, ‘আরে শালা টাকাটা কি আমি তোরে একেবারেই দিয়ে দিচ্ছি নাকি? সুমায়-সুযোগ মতো শোধ দিয়ে দিবিএখন আসিরে, গাড়ির সুমায় হয়ে যাচ্ছে
হাবুলের চোখের দুফোঁটা তপ্ত লোনা পানি গন্ডদেশ বেয়ে গড়িয়ে ওর ফুলে ওঠা জিহ্বায় পড়লতাতেই যেন সম্বি ফিরে পেলবলল, ‘আজ তোরে বিদায় দিতি একদম ইচ্ছে কচ্ছে নাআজ থেকে যা-না!
নারে দোস্ত, তা হয় নাবলল সাইফুলজানিসই তো প্রাইভেট কোম্পানিনানান ঝামেলা সব সুমায় লেগেই থাকেআমি যাই রে
ভালো থাকিসবলল হাবুল
হাত নেড়ে বিদায় নিয়ে হাঁটা শুরু করল সাইফুলএকবারও পেছনে ফিরে তাকাল না
মায়ের ইচ্ছাকে কবর দিয়ে যাচ্ছে ওছুটি শেষ হতে এখনও দিন চারেক বাকি আছেতার আগেই ও চলে যাচ্ছেমূলত মায়ের চিঠি পেয়েই ও বেশি করে ছুটি নিয়ে গ্রামে এসেছিলকিন্তু যখন শুনল প্রিয় বন্ধুর দুরবস্থার কথা, তখন নিজের সাথে বেশ করে ... ওঅবশেষে বন্ধুর পাশে দাঁড়ানোই স্থির করলরনিকে হারিয়েছে ও, শেষ দেখাটাও দেখতে পায়নিতাই হাবুলকে অন্তত বাঁচিয়ে রাখার জন্য মায়ের চাওয়াকে জলাঞ্জলি দিতে বাধ্য হয়েছেআর নিজেকেও কি ঠকায়নি ও? তা তো অবশ্যই ঠকিয়েছেঠকিয়েছে মাকেও।...
নাহ্, আর ভাবতে চাইল না সাইফুলসময় নিয়ে চাপা একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল ওএই নিঃশ্বাসের সাথে বের করে দিতে চাইল সদ্য দেখতে থাকা সোনালি স্বপ্নের রেশটাআপাতত অঙ্কুর অবস্থাতেই ঘুমিয়ে থাক ওটাপরে সময় মতো জাগিয়ে নেয়া যাবে
আরেকটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লতারপর দ্রুত পা চালাল সামনের দিকে

বুধবার, ১১ মে, ২০১১

কেয়ামতের খুচরা এ্যাকশন শুরু =জহুরী

কেয়ামতের আর বেশী বাকি নেই। খুচরা এ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। চুড়ান্ত অবস্থা কবে এবং কখন শুরু হবে তা আল্লাহ ভাল জানেন। তবে আলামত যা দেখা যাচ্ছে  তাতে মনটা যেন বলছে, আর বেশী দেরী নেই, মানুষের আচার-আচরণ, চিন্তা-চেতনা, মন-মানস তথা চারিত্রিক পরিবর্তন যেভাবে দ্রুত ঘটছে, সেই পরিবর্তিত চরিত্রের সংগে কেয়ামতের আলামতগুলো বীজ গণিতের ফর্মূলার মত মিলে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক জগতে যে ওলট পালট  অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত হচ্ছে তাও রোজ-কেয়ামতের সঠিক পূর্বাভাস বলে গণ্য করা যায়।
সুতরাং যে যেখানে যে অবস্তায় যে কাজ নিয়ে আছেন, তিনি নর না নারী , বাদশাহ না ফকির, শাসক না শাসিত, সাদা না কালো, ধনী না গরীব, শক্তিমান না দূর্বল, শিতি না অশিতি অর্থাৎ জাগতিক পরিচিতি যাই থাক না কেন সকলেরই হুশিয়ার হওয়ার সময় এসে গেছে। লাফালাফি-দাপাদাপি বন্ধ করুন। লাফ দিয়ে এই সীমাহীন শূণ্যতার কতটুকু উচ্চে উঠতে পারবেন? দেহের সকল শক্তি দিয়ে লাথি মেরে কতটুকু জমিনের কত ইঞ্চি  দাবিয়ে দিতে পারবেন শুনি? লাফালাফি-দাপাদাপি যে যতই করুন না কেন, কোন মর্দের বাহাদুরী কতটুকু তা বহুবার  দেখা গেছে। কোটি কোটি মানুষের শান্ত  কলিজায় যিনি  কম্পন সৃষ্টি করতে পারেন, সেই ব্যক্তিকেও দেখা গেছে যে , সামান্য একটা ধাককায় চিরদিনের জন্য চিৎহয়ে পড়ে থাকতে। অতএব বাহাদুরী করার আগে যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ দেহটাকে দেখে নিতে  পারেন তাহলে দম্ভ-ভরা বুকটা অস্বাভাবিকভাবে কখনো ফুলে উঠবে না।
অবস্থা কেমন কেমন যেন ঠেকছে। সময় থাকতে অট্টহাসিকে মুচকি হাসিতে সীমিত করে ফেলুন ,একটানা  কান্নার সময় আসার আগেই হি-হি হে-হে করার অভ্যাস ত্যাগের অভ্যাস করুন। মানব চরিত্রে কেয়ামতের আলামত শুরু হয়ে গেছে এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে ছোট ছোট আলামত  গুলো এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। লোকেরা ওয়াকফ সম্পত্তিকে নিজের সম্পত্তির মত মনে করে ভোগ  করবে। জাকাত দেয়াকে দন্ডস্বরুপ মনে করবে । আমানতের মালকে নিজের মালের মত মনে করে হস্তপে করব্।ে পুরুষরা স্ত্রীর তাবেদারী করবে। মা-বাপকে পর মনে করতে থাকবে এবং পরকে আপন ভাবতে থাকবে। দ্বীনের ইলিম দুনিয়ার অর্থ উপার্জনের জন্য শিা করবে। চরিত্রহীনরাই দেশ শাসনে আসবে। অযোগ্যরা বড় বড় দায়িত্ব পালনের জন্য বড় বড় পদ দখল করে নেবে। জুলুমের ভয়ে জালিমকে তাজীম করবে। নাচ-গানের প্রসার ঘটবে, বেহায়ামীপনা ও জ্বেনাকারী বৃদ্ধি পাবে। বাদ্য বাজনার প্রচলন খুব বেশি হবে। নেক লোকদের আহাম্মক , বোকা, পশ্চাদপদ বলে পাপীরা আখ্যায়িত করবে। এ সব আলামত যখন পাওয়া যাবে তখন মনে করতে হবে যে, কেয়ামত নিকটবর্তী। এ অবস্থা  সৃষ্টি হলে তখন আগুনে বাতাস প্রবাহিত হবে। পৃথিবীর গর্ভে লোক হারিয়ে যাবে। আকাশ থেকে প্রস্তর বর্ষিত হবে। কিছু লোকের আকৃতি-প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়ে যাবে। দ্বীনের এলম চর্চা হ্রাস পাবে। মিথ্যা  বলাকে বুদ্ধিমতত্তা বলে মনে করা হবে। মিথ্যা ও অন্যায় আইন-কানুন জারি হবে।
এবার চিন্তা করে দেখুন, আলামত শুরু হয়ে গেছে কিনা। ওয়াকফ সম্পত্তি ক্রমশ: হাত ছাড়া হচ্ছে।  দেশের বিভিন্ন  জায়গায় ওয়াকফ  সম্পত্তি নিয়ে রীতিমত কাড়াকাড়ি  শুরু হয়ে গেছে। আপনি যে জেলার বাসিন্দা হোন না কেন, একটুখানি খোঁজ খবর নিলে এমন বেহাত ওয়াকফ সম্পত্তির সন্ধান অবশ্যই পাবেন। জাকাত দেয়াকে অনেকেই নিজেদের উপর জুলুম মনে করেন। অনেকে জাকাতই দেনা না। আবার অনেকে জাকাত দেন তবে কাড়া-নাকাড়া বাজিয়ে অর্থ্যাৎ প্রচার প্রপাগান্ডা করে। জাকাত দেয়া যাদের উপর ফরজ তাদের শতকরা পাচঁভাগ সঠিকভাবে এবাদত জ্ঞান করে জাকাত জামাইর টাকা শ্বশুর হজম করে নিচ্ছে, এতিমের আমানত খেয়ানত করা তো এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।  শ্বশুরের টাকা জামাই মেরে নিচ্ছে , জামাইর টাকা শ্বশুরে হজম করে নিচ্ছে, এতিমের আমানত সবলেরা লুটে -পুঠে খাচ্ছে কৃষককে ঋণ দানের আমানত টাকা ব্যাংকের একশ্রেণীর লোকজন ষড়যন্ত্র করে আত্মসাত করছে, আজ অমুক ব্যাংকের ক্যাশিয়ার কাল তমুক ব্যাংকের ক্যাশিয়ার , পরশু আবার অন্য ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মোটা অংকের ক্যাশ নিয়ে উদাও হয়ে যাচ্ছে। এসব খবর প্রায় প্রতিদিনের কাগজে আমরা পাঠ করছি। স্ত্রৈণ পুরুষের সংখ্যা ক্রমশ: বৃদ্ধি পাচ্ছে।  স্ত্রীর বাপের টাকায় অনেক জোয়ান মর্দ গরু-মহিষের মত বিক্রি হয়ে স্ত্রীর পরমাবর্দারে পরিণত হচ্ছে। যৌতুকের  ভারী বোঝা পিঠে নিয়ে বহু পুরুষ স্ত্রীর কাছে আজ্ঞাবহ দাসের মত জীবন-যাপন করছে। শহরে বন্দরে বিলাস-বহুল বিপণী বিতানে স্ত্রী ভ্যানিটি ব্যাগ হাতে নিয়ে আগে আগে হাটেন আর পিছনে পিছনে স্বামী নামক কেনা বান্দা কেমন সুশীল বালকের মত শুধু স্ত্রীকে অনুসরণ করেন। যৌতুকের যত প্রসার ঘটছে স্ত্রী তাবেদার স্বামীর সংখ্যা তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মা-বাপকে পর মনে করার মত সন্তানের সংখ্যা এখন বেশূমার। বিয়ের আগে যেমন তেমন; কিন্তু  যৌতুকের জোয়াল কাধেঁ নিয়ে বিয়ে করার পর প্রায় সন্তাননেরাই আপন বাবা পর হয়ে শ্বশুর বাবা আপন হয়ে যায়। আপন মা পাত্তা না পেলেও শ্বাশুড়ীর মার কদমবুচির বারবার করতে জামাই বাবাজীর মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। আজকাল অনেক মা বাবার লায়েক সন্তানকে দেখা যাচ্ছে যে, বাপের বাড়ী ত্যাগ করে শ্বশুরবাড়ী গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে দিয়েছেন। আপন ভাইকে দূরে ঠেলে দিয়ে বউয়ের ভাইকে সহোদরের জায়গায় বসাতে অনেককে দেখা যাচ্ছে। নিজেরন ভাই কলেজের মাস মাহিনা দিতে না পারার কারণে লেখা পড়া ত্যাগ করলেও শালা সাহেবের হোস্টেলের চার্জ পরিশোধে কখনো বিলম্ব হয় না। দ্বীনের ইলিম দুনিয়ার  অর্থ উপার্জনে অনেক েেত্র ব্যবহার হচ্ছে। দেশ শাসনে চরিত্রহীনদের প্রতিযোগিতা দেশে দেশে যে চলছে তা বোধ হয় ব্যাখ্যা করে বলার প্রয়োজন নেই। মামা ভাগিনা, চাচা ভাতিজা, আর শালা দুলাভাইর সম্পর্কের সাকো পেরিয়ে স্বজন-প্রীতির মাদুলী গলায় ঝুলিয়ে গর্দভ বড় বড় পদ দখল করতে সম হচ্ছে। আজকাল এসব কোন লুকোচুরি ব্যাপার নয়। জুলুমের ভয়ে জালিমের তাজিম করা আজকাল রেওয়াজ হয়ে গেছে। উপায় তো নেই, প্রত্যেকের গর্দানের উপর মাথা তো একটাই। ইনসাফের রশি ঢিলা হয়ে পড়লে জালিমদের দোরাত্মা বাড়ে। উদ্যত পিস্তলের সামনে পন্ডিতের কলম খুবই অসহায়। নেশাখোরদের সংখ্যাও বেড়ে চলছে। দেশী-বিদেশী মদ, গাজা, ভাঙ থেকে শুরু করে নিচের দিকে বিড়ি সিগারেট সহ নেশাখোরদের অবস্থা যা তাতে অবাক হতে হয়। সংখ্যাটা প্রতি বছরই শুধু বাড়ছে আর বাড়ছে। নাচ-গান, বাদ্য-বাজনার প্রসারও ক্রমশ: ব্যাপ্তির দিকে। এসবকে সংস্কৃতি চর্চা নাম দিয়ে প্রতি গ্রামে প্রতি স্কুলে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। বেহায়ামীপনা তো আধুনিকতার ভূষণে পরিণত হয়েছে, জ্বেনাকারের দল ক্রমশ: ভারী হচ্ছে। পশ্চিমা দুনিয়ায় কুমারী ষোড়শী ডুমুরের ফুল। উন্নয়নশীল দেশেও জোর হাওয়া লাগছে। এখন সামাল সামাল অবস্থা। সর্বশেষ কথা হলো, যারা দ্বীনের পথের পথিক হওয়াকে পছন্দ করেছে তাদেরকে শুধু বোকা বা আহাম্মক বলা হচেছ না বরং তারা পশ্চাদপদ, প্রতিক্রিয়াশীল, প্রাগৈতিহাসিক, সেকেলে, মধ্যযুগীয় ইত্যাদি হরদম বলা হচ্ছে। সুতরাং এসব আলামত তো শুরু হয়ে বেশ অগ্রসর হয়ে গেছে। উত্তপ্ত বাতাস প্রবাহিত হয়ে খরায় জ্বলছে স্পেন, অষ্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান, ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়া সহ বহু দেশ। ভুমিকম্প হওয়ার কারণে এই দশকে ইরান, ইকুয়েডর, রোমানিয়া ও জাপানসহ অনেক দেশেরই লোকালয় পৃথিবীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। লোকের আকৃতি প্রকৃতির পরিবর্তনও লনীয়। প্রায়ই শুনা যাচ্ছে এবং খবরের কাগজে সংবাদ বের হচ্ছে যে, অমুক নারী এখন পুরুষ হয়ে গেছে আর অমুক পুরুষ নারী হয়ে গেছে। দুই দশক আগেও এমন সংবাদ শুনা যায়নি, কিন্তু আজকাল পরিবর্র্তিত আকৃতি প্রকৃতির নারী পুরুষও দেখা যাচেছ। আলামতগুলে  হুবহু মিলে যাওয়ার পরও যাদের মনে কোন ভাবান্তর ঘটবে না, তারা দাজ্জালের শিষ্যত্ব গ্রহনের উপযুক্ত বলে অবশ্যই বিবেচিত হবে। তবে এসব কথায় যদি তাদের বিশ্বাস থাকে।