শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১১

প্রবন্ধ


একটি সফল কমান্ডো
অভিযানের ব্যর্থ পরিসমাপ্তি
 মু: গোলাম মাওলা খান

/১১ আমেরিকার নিউইয়র্ক শহর, প্রতিদিনের মত সেদিনও ছিল ব্যস্ত শহর। এই ব্যস্ত শহরেই গর্বের সাথে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়েরভয়াল সাী বহুতল ভবন টুইন টাওয়ার। ঘটনার কিছু পূর্ব মুহুর্তে হয়তোবা সে আচঁ করতে পারেনি যে তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছে। হঠাএইইট পাথরের ভবনটির উপর আছড়ে পড়লো গোটা তিনেক বিমান। তার বুক ভেদ করে বেরিয়ে এল নতুন ইতিহাস। নির্মাণের নিমিত্তে নিহত হল তিন হাজারআর আহত হল অসংখ্য। আর নির্যাতিত হবার জন্যে প্রহর গুনতে লাগলো ভবনটি থেকে অনেক দূরে কিছু মুসলিম জনপদ। আমরা এই ধ্বংসের নিন্দা জানাই, হোক সে পরিকল্পিত বা সন্ত্রাসী হামলা। এখনো এই ধ্বংসের রহস্য চাপা পড়ে আছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কোন অদৃশ্য জগতে। আর এর উত্তর হয়তো কোন দিনমিলবেনা। আর এই ধ্বংসের জন্য দাবি করা হল ওসামা বিন লাদেনকে। কোন তথ্য প্রমান ছাড়াই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হল। এই ওসামা অভিযানেরমাধ্যমে তাড়িয়েছিল। আর তাই সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্টের এত ভয়। তখন কার আফগান শাসক তালেবানের কাছে লাদেনকে দাবি করল যুক্তরাষ্ট্র তালেবানরা হামলার সাথে জড়িত থাকার প্রমান চাইলে তারা তা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলো। তারা সে দিন প্রমান দিল না, কারন নিজের পাপ কে প্রকাশকরতে চায়, তাহলে যে নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গের জন্য বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড়াতে হবে
অবশেষে, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে হামলা হলো আফগানিস্তানে প্রাণ দিতে থাকলো মজলুম। তছনত হলো ইতিহাস ঐতিহ্যের ভূমি আফগান। আস্তে আস্তেতাদের ষড়যন্ত্রের জাল ছড়িয়ে পড়ল পাকিস্থানে। আর ষড়যন্ত্রের জালে নতুন একটু অংশ বাড়িয়ে দিতে কথিত সাজানো সফল অভিযান পরিচালিত হলপাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে। সামরিক এলাকা থেকে মাত্র দুই হাজার চারশত ফুট দূরে একটা ভূ-তুড়ে বাড়ি। যে বাড়িতে নাকি আল কায়দা খ্যাত লাদেন বাসকরত। আর পরিচালনা করত তার দল। মজার ব্যাপার  হলো সেদিনকের অভিযানে লাদেন কে তারা কোথায় পেল যে লাদেন মারা গেছেন আরো আগে।আমেরিকার রাজনীতিবিদ বুদ্ধিজীবীরা তাই মজা করে বললেন লাদেনের আবার পুর্নজন্ম হল কবে। ইরানের তথ্য  মন্ত্রী দাবি করেছেন, তাদের কাছে যথেষ্টপ্রমাণ আছে লাদেন কিডনি রোগে স্বাভাবিক মৃত্যু বরন করেছে। যাই হোক নিরস্ত্র লাদেন কে হত্যা করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জাস্টিস হ্যাজ বিন ডান। একটিস্বাধীন দেশে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে মানুষ হত্যা করে আবার তারা বলছে বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমেরিকাকে এই মতা কে দিল? কই কোন আদালতেলাদেন তো দোষী সাব্যস্ত হয়নি। শুধু সন্দেহ ভাজন কোন ব্যক্তিকে বিনা বিচারে হত্যা করে তার লাশ গুম করে যদি বিচার প্রতিষ্ঠা হয় তাহলে অবিচার কি? অবশেষে আমরা ধরে নিলাম সে দিনকার৩১ নেভি মিলেরকমান্ডো অভিযানে লাদেন নিহত হয়েছে এবং সফলতা একশত ভাগই আমেরিকার।
কিন্তু আবারও ষড়যন্ত্রের শিকার হল পাকিস্থান। আমেরিকানদের টার্গেট পাকাপোক্ত করতেই হয়তোবা সামরিক এলাকার কাছেই বেছে নেওয়া হল সেইবাড়িটিকে। পাথর্ক্য শুধু টুইন টাওয়ার নিউইয়র্কে আর বহুতল ভবন আরতাজাকিস্থান  প্যালেজঅ্যাবেটাবাদে দ্বি-তল ভবন। আর কোন পার্থক্য এইষড়যন্ত্রে নেই বলেই মনে হয়। আর লাদেন  কে বাড়িতে শনাক্ত করার ফলে সব দোষ পড়ল পাকিস্থানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএস আই এর ওপর। আরপশ্চিমা বাঘা বাঘা গোয়েন্দারা হয়তো এ্যাবোটাবাদকে  বাদ দিয়েছিলেন তাদের তালিকা থেকে। খুনিরা থানার পাশে বাড়ি ভাড়া নেওয়ার মতই বিগত কয়েকবছর আগে নিহত লাদেন সামরিক এলাকার নাকের ডগায় দীর্ঘ পাচঁ বছর বাস করছিলেন। সবই কেমন যেন হাস্যকর ধোঁয়াটে মনে হয়।
কিন্তু আর কত মানব সন্তান রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বলির পাঠা হলে এই সন্ত্রাসবাদ অভিযান শেষ হবে। পর্যন্ত প্রায় বিশ লাধিক মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছেসাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার হাতে। এর বিচার কে করবে, কে কমান্ডো অভিযান প্রেরণ করবে যুদ্ধপরাধী বুশের বিচারের আওতায় আনতে 
বুশ ওবামার  সন্ত্রাসী দমন অভিযানের বলির পাঠা হলো হতভাগা জনগন। জনপদের পর জনপদ তারা ধ্বংস করে চাপিয়ে দিচ্ছে তাদের নীতি। এইসাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা পৃথিবীতে  প্রথম যুদ্ধে পরাস্ত ঘটিয়েছে জাপানকে। আজ মানবতার বোবা কান্না ওদের কানে পৌঁছায়না। পৌঁছায়না ধর্ষিত বোনেরপাহাড় সমান কষ্ট। আজ মানবতা বাদীদের শান্তির পায়রা থেকে ফেলিত বোমার আঘাতে ছিন্ন-বিছিন্ন হচ্ছে কুসুম বাচ্চাদের দেহ। অনেক হৃদয় বিদারক দৃশ্যদেখা যায় আক্রান্ত জনপদ গুলোতে, যা টুইন টাওয়ার ধ্বংসের চেয়েও কয়েক হাজার গুন বেশি। এসব দৃশ্য দেখে যাদের মনুষ্যত্ব জাগ্রত আছে তাদের বিবেককেতাড়া করে ফেরে। কিন্তু পশ্চিমাদের সুরতি বিবেককে আঘাত হানতে পারেনা এসব দৃশ্য।
তাদের এই সন্ত্রাস দমন অভিযান শেষ হবে  সব মুসলিম  মারতে পারলে। দুনিয়া থেকে সংগ্রামী স্বাধীনতা কামী মানুষ গুলোকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারলেইতাদের শান্তি আসবে। আজ পৃথীবিতে সাম্রাজ্যবাদী বিরোধী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রে, হুগো শ্যাভেজ, আহমাদিনেজাদ তাদের চুশুল। বেঁেচ থাকলে হয়তো কার্লমাকস্র্, লেলিনও আমেরিকানদের প্রতিহত করার জন্য ব্যস্ত থাকতে হতো।
আজ সমাজের মুক্ত চিন্তার মানুষগুলো তাদের কাছে অসহনীয় তারা সবাই কে রক্তচুর ভয় দেখিয়ে পৃথিবী খ্যাত অস্ত্র প্রযুক্তি দিয়ে দাবিয়ে রাখতে চায়সত্যকে ধ্বংস করতে চায়, সত্যের বার্তা বাহকদের। কিন্তু ইতিহাস সাী দেয় তাদের শক্তিশালী পূর্বপুরুষরাও ঠিক একই কাজ করে ছিলেন। তবে তারা সফলহননি। তারা ইতিহাসের নোংরা পচাঁ গলিতে নিপ্তি হয়েছে। আর জয় হয়েছে মজলুমদের, জয় হয়েছে মানবতার, জয় হয়েছে সত্যের। কারনসত্যের জয়চিরস্থায়ী, আর মিথ্যার জয় ণস্থায়ী। অচিরেই এই সাম্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে মজলুম বেরিয়ে আসবে। তাদের গদি হবে তছনছ। সেদিনকারসাজানো কমান্ডো অভিযান সফল হলেও তাদের মূল নীলনকশা কাগজে কলমেই থেকে যাবে আর তা ব্যর্থ হবেই হবে ইনশাআল্লাহ।
# শিার্থী, জবি

সমসাময়িক


অপরাধের বিস্তার নারী নির্যাতন
শাহ আবদুল হান্নান


কয়েক দিন আগে পত্রিকার খবরে দেখা গেছে, বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে প্রায় দুই হাজার মানুষ খুন হয়েছে এবং দেড় হাজারের মতো ধর্ষণের ঘটনাঘটেছে। অন্য এক খবরে দেখা যায়, পুলিশ উঠতি মাস্তানদের নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। পাড়ায় পাড়ায় তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্য দিকে আইজিপি খন্দকারহাসান মাহমুদ ১০ অক্টোবর বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো। একই কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনও বারবার বলেছেন। সাধারণ লোকেরাকিন্তু এই কথা বিশ্বাস করতে পারছে না।
পরিপ্রেেিত আমার মনে হয়, জাতি এক ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্যে আছে। এটা বৃদ্ধি পাবে, যদি এখনই মোকাবেলার উদ্যোগ না নেয়া হয়। উঠতি মাস্তানদেরকথা দিয়েই শুরু করি। কেন পাড়ায় পাড়ায় এসব মাস্তানের আবির্ভাব ঘটছে? কেন বস্তিগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মাস্তান, খুনি, ভাড়াটে সন্ত্রাসী মাদকব্যবসায়ীর উদ্ভব ঘটছে? এর কারণ বোধহয় সবারই জানা। বস্তিগুলোতে সত্যিকারের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। সেখানে না আছে পানির ভালো ব্যবস্থা, নাআছে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। শিার সুযোগ তো একেবারেই নেই। বস্তিবাসী মা-বাবার সন্তানরা শিা পাচ্ছে না। অথচ শিা লাভ করা ছাড়া এদের কর্মসংস্থানসম্ভব নয়। তা হলে এরা ভবিষ্যতে কী হতে পারে? তারা হতে পারে এবং হচ্ছেও ছিনতাইকারী, পকেটমার, মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, ভাড়াটে খুনি, ধর্ষণকারী ইত্যাদি।
মাস্তানদের মধ্যে ধনী পরিবারের কিছু সন্তানও আছে। অথচ তাদের কোনো অভাব নেই। তাদের নিজেদের বাড়ি আছে, গাড়ি আছে। তার পরও তারা মাস্তান, ধর্ষণকারী, ছিনতাইকারী হচ্ছে। এদের ব্যাপারটি স্বতন্ত্র। এরা পরিবারে ভালো শিা নৈতিকতা পায়নি। বাবা-মায়ের খবরদারি তাদের ওপর অধিকাংশত্র থাকে না। তারা ইন্টারনেট থেকে অশ্লীলতা শিখছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের েেত্র তাদের ওপর বাসায় বাবা-মা নজর রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। ভিডিওতেনানা ধরনের যৌনতা দেখে তারা ভয়াবহ যৌনকাতর হয়ে পড়েছে। এদের পে অন্য নারীর মর্যাদাহানি কোনো ব্যাপার নয়। ইভটিজিং বা কিশোরীদের বিরক্তকরা তাদের জন্য কোনো বড় ব্যাপার নয়। তারা সহজেই ধর্ষণকারীতে পরিণত হয়। এমনকি তারা ধর্ষণের সংখ্যার হিসাব পর্যন্ত রাখে। যে যত বেশি ধর্ষণকরেছে, তাদের গোষ্ঠীর কাছে তারা বড় বীর। েে
পরিস্থিতিতে আমাদের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা চিন্তা করতে হবে। শহরের বস্তিগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যেসব বস্তি উঠিয়ে দেয়া সম্ভব, উঠিয়ে দিতে হবে। বস্তিবাসীকে নিজ গ্রামে ফেরত পাঠাতে হবে। তাদের পুনর্বাসনে কাজে লাগাতে হবে কিছু এনজিওকে। বস্তির মালিকদের বাধ্য করতে হবেযেন তাদের মালিকানাধীন বস্তিগুলোতে পানি টয়লেটের সুব্যবস্থা থাকে। খাসজমির বস্তিগুলোতে এসব ব্যবস্থা সিটি করপোরেশনকে করতে হবে। ঢাকার কথাবলছি। অন্য প্রধান শহরগুলোতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রত্যেক বস্তিতে শিার উদ্যোগ নিতে হবে। কিছু এনজিও সহায়তায় প্রত্যেক বস্তিতে বাকয়েকটি বস্তিকে ভিত্তি করে প্রাইমারি এবং বৃত্তিমূলক শিার ব্যবস্থা করা খুবই প্রয়োজন। তারা যাতে কাজে যায়, সেজন্য উদ্যোগ নিতে হবে। যত দিন কাজনা পাবে, এদের বেকার ভাতা দেয়া দরকার। শিা কাজ না দিয়ে বাস্তবে মাস্তানি থেকে উদ্ধার করা সম্ভব নয়।
অবশ্যই পুলিশের ভূমিকা অনেক বড়। মাস্তানি দমনে তাদের প্রচেষ্টা অবশ্যই চালাতে হবে। বিশেষ করে বড়লোকের সন্তান, অনেক েেত্র শিতি মাস্তানদেরব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। পুলিশ কর্তৃপ স্বয়ং তাদের সংযোগ প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন বস্তিতে স্কুল কিনিক প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং করাউচিত। বর্তমান আইজিপি ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারেন।
এখন নারী নির্যাতন ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চাই। সব ধরনের নারী নির্যাতনই বাড়ছে; যৌতুক সংক্রান্ত অপরাধ, এসিড নিপে, অপহরণ জোর করে বিবাহ ইত্যাদি। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে ধর্ষণ এবং ধর্ষণপূর্বক হত্যা। আমরা ব্যাপারে যথাযথ কৌশল (স্ট্র্যাটেজি) নির্ধারণ করতেপারছি না। এর কারণ, ধর্ম ধর্মীয় মূল্যবোধকে বাদ দিয়ে চিন্তাভাবনা এবং টিভি চ্যানেল বিজ্ঞাপনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে অনীহা। এদের বাদ রাখাহলে কোনো কৌশলই কাজ করবে না। আইন প্রোয়াজন (তা আছেও) পুলিশি পরতা আইন প্রয়োগ, মানসিক চিকিসা, মাদকসেবীদের পুনর্বাসন, অপরাধী যুবকদের কাজ দেয়া পুনর্বাসন সবই প্রয়োজন। এতে আমার বা সম্ভবত কারো ভিন্ন মত নেই। কিন্তু আমি মনে করি, যদি শিাব্যবস্থা মাধ্যমেনৈতিকতা ধর্মীয় মূল্যবোধ পুনর্বহাল করা না যায়, টিভি চ্যানেলে যদি নৈতিকতাবিরোধী অনুষ্ঠান-নাটক ইত্যাদি চলতেই থাকে, উপস্থাপিকারা যদি উগ্রপোশাক পরিধানের রেওয়াজ সৃষ্টি করেন, বিজ্ঞাপন যদি যৌন-উদ্দীপক হয় এবং কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকে, পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেয়াহয়, তাহলে নারী নির্যাতন ধর্ষণ কমানো কঠিন হবে। সত্যি বলতে কী, যখন বস্তি রাস্তায় মানুষ কিশোরদের (ঝঃববঃ ঈযরষফবহ) দেখি, তখনতাদের মধ্যে যাদের বয়স ১২ বা ১৩ বছর বা বেশি, এদের কাছে কোনো নারীই নিরাপদ মনে হয় না। তারা নারীদের যেকোনোভাবে নির্যাতন করতে পারেবলে আশঙ্কা হয়। উঠতি ধনী মাস্তানদের সম্পর্কে একই রকম মনে হচ্ছে। প্রশাসন দেশবাসীকে বলছি, অবিলম্বে ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তা না করলে সঙ্কট থেকে জাতির মুক্তির কোনো উপায় দেখি না।
লেখক  ঃ সাবেক সচিব,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

জীবনের গল্প

কেমন আছে রণতরী
পাভেল সারওয়ার

দীর্ঘ বিরতির পর রণতরীকে নিয়ে লিখছি। শিাঙ্গনের যারা নিয়মিত পাঠক তাদের কাছে রণতরীকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন মনে করছিনা। তবে নতুন পাঠকদের বলছি, রণতরী - গ্রাম থেকে ঢাকায় আসা বিশ্ববিদ্যালয় পড়য়া এক তরুণের নাম। হাসি- কান্না, মান-অভিমান, ভালবাসা-শ্রদ্ধাপ্রভৃতি হচ্ছে চরিত্রের মূল বৈশিষ্ঠ্য। 
রণতরী স্বাধীনচেতা তবে আত্মকেন্দ্রিক নয়। শিাঙ্গনের ৪র্থ বর্ষপূর্তি সংখ্যায় এসে রণতরীর বর্তমান হালচাল নিয়ে লিখছিকেমন আছে রণতরী
  রণতরী প্রচুর বৃষ্টি ভালবাসতো। বৃষ্টির দিনের বহু স্মৃতি জমে আছে তার মন মগজে।
সেবার আকাশে বৈশাখী মেঘ ছিল, তাই বৃষ্টির আনাগোনা ছিল থেমে থেমে। কোচিং শেষ করে কল্পনার রংতুলি দিয়ে কিছু একটা আঁকতে আঁকতে তার প্রিয়বন্ধুটিকে নিয়ে রাস্তার একপাশ ধরে হাঁটছিল রণতরী। যেই তারা এএম কলেজের সাইকেল স্ট্যান্ড পর্যন্ত আসল অমনি আকাশ ফেটে নেমে এল বৃষ্টি। দুজনেরইইচ্ছে ছিল বৃষ্টিতে ভিজবে না শুধু উপভোগ করবে বৃষ্টির সৌন্দর্য। কিন্তু প্রকৃতি তাদেরকে বৃষ্টির আবেগী ভালবাসায় সিক্ত করলো। দুজনের কাক ভেজাঅবস্থা।
এখন আর রণতরীর বৃষ্টির ভালবাসায় সিক্ত হতে ইচ্ছে করে না। বৃষ্টি এলে তার মনে অমাবশ্যার রাত নেমে আসে। বৃষ্টি এলে তার কানে বাজেবৃষ্টি ভেজামেঘলা আকাশ একলা হতে চায়/ স্বপ্ন নীলের মিছিলে খুঁজোনা আমায় কিন্তু রণতরী তার সে প্রিয় বন্ধুটিকে ফিরে পেতে চায়-যাকে সে পেয়েও হারিয়েছে।
আজ কাছের মানুষগুলি স্বার্থ-বাস্তবতার নৌকোয় চড়ে তাকে ফেলে চলে যাচ্ছে বলে রণতরী অন্ধকারকে আপন করে নিয়েছে। যে অন্ধকারকে কখনো সহ্যকরতে পারতো না সে। ঘরছাড়া দুরন্ত উচ্ছল সে রণতরীর এখন খোলা আকাশ থেকে বদ্ধ ঘরকে ভাল লাগে।
রণতরীর নতুন বন্ধু - দুধরাজ। নাম শুনে আশ্চর্য হওয়াটাই স্বাভাবিক। এটা কোন মানুষের নাম নয়। একটি কাঠের তৈরি খেলনা সাপের নাম। এক বড় ভাইথেকে উপহার পাওয়া। রণতরী তার মনের অব্যক্ত কথাগুলো এখন এই দুধরাজের সাথে ভাগাভাগি করে। সে মনে করে সেও একা- সাপটিও একা। তবে দুয়েরমধ্যে অদ্ভুত মিল- দুজনই সব শুনতে পায় দেখতে পায় কিন্তু কিছু বলতে পারে না। রণতরী পারে না বাইরের জগতের মানুষগুলোর কাছে নিজের ভিতরেরমানুষটিকে প্রকাশ করতে।
তখন বর্ষাকাল ছিল। রণতরী গিয়েছিল পদ্মার পাড়ে। পদ্মার ছলাছলাঢেউ রণতরীর মনকে আলোড়িত করেছিল। সব বন্ধু  ঝাঁপিয়ে পড়ে পদ্মাকেবাহুবন্দি করেছিল। কিন্তু পদ্মার সেই ছলাছলাঢেউয়ের শব্দ এখন কেবলই সর্বগ্রাসী ভাঙনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
জোসনা বৃষ্টিতে ভেজা ছিল রণতরীর আরেকটি মজার ইচ্ছে। খোলা আকাশে পানির ট্যাংকের উপর বসে, রেললাইনের পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে জোসনা কুড়িয়েকাটিয়েছিল কত্তো রাত! যাদের সঙ্গে নিয়ে সে জোসনায় স্নান করতো তারাও ইদানীং বদলে গেছে। সে বদলানোটা অনেকটা প্রথম আলোর বদলানোর মতোই।কিন্তু কিছু সম্পর্ক থাকে যা কখনোই বদলানো যায় না। বদলানো ঠিক না বিশ্বাস, আস্থা ভালবাসা। রণতরী ভালবেসেই পৃথিবীটাকে জয় করতে চেয়েছিল।এখনো চায় হয়তোবা! কিন্তু এখন জোসনা ছড়ানো চাঁদের দিকে তাকালে রণতরীর কেবলচাঁদের কলঙ্ক কথা মনে পড়ে।
রণতরীর অভিমানটা ইদানীং একটু বেড়েছে। অল্পতেই সে অভিমানী হয়ে যায় যে কারো প্রতি। কেউ তাকে বুঝতে চেষ্টা না করলে সে মনে করে তাকে অবহেলাকরছে যেটা তার অভিধানে অপমানের মতো।
রণতরীর নতুন জীবন শুরু হয় ২০০৭ সালের শেষ ভাগ থেকে। তখন থেকে সে পেয়েছে অনেক অভিভাবক-অনেক ভালবাসা। একটা সময় রণতরীর অনেকবন্ধু ছিল কিন্তু কোন ভাই ছিল না। নতুন জীবনে এসে সে অনেক ভাই পেয়েছে। এখন অভিভাবকদের প্রতি তার অভিমান-অভিযোগ খানিকটা বেশি। হয়তোভালবাসা বেশি বলে। রণতরী মনে করে ছোটরা ভুল করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অভিভাবকরা যদি সে ভুলকে বড় করে দেখে তাকে দূরে ঠেলে দেয় তাহলেঅভিমানের সাথে রাগ যোগ হয়ে ঝড়ের সৃষ্টি হবেই।
মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কটা সাদা কাপড়ের মতো। খুব স্বচ্ছ এবং সুন্দর। ইচ্ছে করলে যে কেউ কেটে দুভাগ করতে পারে, জোড়াও দিতে পারে। কিন্তুসেলাইয়ের দাগ থেকে যায় আজীবনের জন্য। রণতরী তার ভাললাগার মানুষগুলোকে ভালবাসে দুধ পানির মতো। দুধ যখন পানির সাথে মিলে তখনদুজনে একাকার হয়ে যায়। কিন্তু আগুন দিয়ে তাপ দিলে পানি যখন বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে চায়; তখন দুধ ফুলে উঠে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। আবারসেই দুধের উপর যখন পানির ছিটা দেয়া হয়; তখন দুধ পানিকে পেয়ে শান্ত হয়ে যায়। রণতরীও সকল মানুষকে ভালবেসে কাছে পেতে চায়। সে অনেকমানুষের মিছিলে একা থাকতে যায় না। সে কি পারবে ?

ইতিহাস

তখন থেকে এখন
রিয়াদ হোসাইন রায়হান


প্রতিটি সৃজনশীল কর্মকান্ডই আগামীর বার্তা বাহক। জ্ঞান অন্বেষণ, জ্ঞানের রাজ্যে বিচরণ এ সবই যে কোন সৃজনশীল পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করে। যদি কোন পরিকল্পনার বিষয়বস্তু হয় উন্নত নৈতিকতাবোধ তৈরী তবে তা হয় একটি উত্তম পরিকল্পনা। যদি কোন পরিকল্পনার ল্য উদ্দেশ্য হয় আদর্শ জাতি গঠন তা হয় একটি মহতী উদ্যোগ। এই ধরনের একটি পরিকল্পনার স্বার্থক বাস্তবায়নই জন্ম দেয় সুনাগরিকের। ঠিক এমনই একটি পরিকল্পনার স্বার্থক রূপায়ন ঘটে ২০০৮ সালের ৬ জুন শ্রদ্ধাভাজন নিজামুল হক নাঈম ভাইয়ের হাত ধরে। দেশ যখন একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছিল, জাতি হিসেবে আমরা যখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছাত্র হিসেবে সেদিন নাঈম ভাই স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া তারই অগ্রজ-অনুজ ছাত্র-ছাত্রীরা যখন তাদের প্রকৃত দায়িত্ববোধ ভুলে গিয়ে চরম হতাশার মধ্যে দিনাতিপাত করছিল তখন নাঈম ভাই চিন্তা করেছিলেন কিভাবে তাদের বিবেকের দরজায় কড়াঘাত করা যায়। সময়টি ছিল ২০০৭ সালের শেষের দিকে। আমরা সংখ্যায় ছিলাম মাত্র ১৮ জন। তিনি সেদিন এ বিষয়ে আমাদের শুধুমাত্র ধারণা দিয়েছিলেন। তথাপি এর ব্যাপকতা আমরা খুব কমই অনুধাবন করতে পেরেছিলাম। কিন্তু স্বপ্ন প্রয়াসী মানুষ কি হাল ছাড়ে কখনও ! সে জানে কিভাবে বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে স্বীয় ল্েয উপনীত হওয়া যায়। হাল ছাড়েননি নাঈম ভাইও। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি শুধু একটি দিক-দর্শনের জন্মই দেননি বরং দিয়েছিলেন এর একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। অবশেষে সকল বাঁধা পেরিয়ে ২০০৮ সালের ৬ জুন জন্ম হল জাতির প্রতিনিধিত্বকারী মাসিক পত্রিকা ‘শিাঙ্গন’। জাতির একটি দূর্যোগময় মুহুর্তে শিাঙ্গনের জন্ম সেদিন প্রমাণ করেছিল এদেশের তরুন সমাজ কত দ এবং কত নির্ভীক। সেদিন ছাত্র-শিক, বুদ্ধিজীবি ও সূধী মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াতে সম হয় শিাঙ্গন। আরো দ্বিগুন উৎসাহে চলতে থাকে তার সাহসী পথ চলা। এই পত্রিকায় একজন ব্যক্তি অথবা শিার্থী শুধু তার স্বাধীন মতামতই তুলে ধরে না বরং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করে কান্ডারীর ভূমিকা পালন করে। এই শিাঙ্গনের মাধ্যমে একজন শিার্থী শুধু তার মেধা বিকাশের সুযোগই পায় না বরং মেটাতে পারে তার জ্ঞানের খোরাক। এই পত্রিকার মাধ্যমে একজন শিক যেমন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা শিার্থীদের আঙ্গিনায় সরাসরি পৌছাতে পারেন, ঠিক তেমনি একজন বুদ্ধিজীবি তার মতামত-দর্শন পৌছাতে পারেন সরকারের কাছে। বহুবিধ চাহিদার বাস্তব অনুরণন এই শিাঙ্গন। এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি নিজামুল হক নাঈম ভাই এর প্রতি তাই আজ হৃদয়ের সবটুকু শ্রদ্ধা প্রকাশ না করে পারছি না। নাঈম ভাইয়ের পর মু. মাকসুদুর রহমান ও মাসুদুল ইসলাম বুলবুল এই পত্রিকাকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। এখন এই পত্রিকার কান্ডারীর ভূমিকায় আছেন শ্রদ্ধেয় শাহীন আহমদ খাঁন ভাই। বলতে দ্বিধা নেই, শিাঙ্গনের নিয়মিত পথ চলা কখনই মসৃন ছিল না। কখনও আর্থিক সংকট আবার কখনও বা স্থায়ী অফিসের অভাব এর চলার পথকে বাঁধাগ্রস্থ করতে চেয়েছে। কিন্তু শিাঙ্গন পরিবারের আন্তরিক প্রয়াস, শিার্থীদের মাঝে এর ব্যাপক চাহিদা, শুভানুধ্যায়ীদের নিয়মিত পরামর্শ সকল বাঁধাকে দূর করতে সম হয়েছে। একে একে তিন বছর পার করে আজ চতুর্থ বর্ষে পা রাখল, সেদিনের সেই শিশু পত্রিকাটি। শিাঙ্গনের অনেক কাজই এখনো অসমাপ্ত। মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে শিাঙ্গন ভাবী সভ্যতার প্রতিটি ইট বিনির্মাণ করতে চায়। শিা ও সংস্কতির শিল্পকে ঐতিহ্যের আলোকে ঢালাই করে শিাঙ্গন গড়ে তুলতে চায় সভ্যতার মিনার। বিশ্বাসী হৃদয়ের অন্ত:কর্ণে কড়াঘাত হেনে শিাঙ্গন গড়ে তুলতে চায় মানবতার শক্ত ভিত। স্বাধীনতার চৈতন্যে লালিত হয়ে শিাঙ্গন ফেলতে চায় তার সাহসী পদপে। কুসংস্কার আর জড়তার সকল বন্ধন ছিন্ন করে শিাঙ্গন হতে চায় মানবতার দিশারী। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ল্েয সততা ও দেশপ্রেমের অঙ্গীকারবদ্ধ শিাঙ্গনের এই অন্তহীন পথ চলা হয়তো একদিন আন্দোলিত করবে ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের এই প্রশস্থ জনপদকে।


লেখক ঃ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মাসিক শিাঙ্গন