শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১১

কবি


জাতীয়
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলাম
মু: সাইফুল

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন তাকে জাতীয় কবি বলা হয় কেন। প্রথমেই বলে নেয়া ভালো যে, জাতীয় কবিতিনিই হতে পারেন যার কাছে জাতির আশা আকাঙ্কা, স্বপ্ন কল্পনা, সংগ্রাম সাধনা  ইতিহাস ঐতিহ্য, এবং সামগ্রিক আত্মপরিচয় বিধৃত। জাতীয় কবি তিনিইহতে পারেন যার কাজ শুধু জাতীয় সাহিত্যের ভান্ডারই সমৃদ্ধ করে না, দেশের মাটি, মাানুষ, প্রকৃতি এবং দেশ বাসীর আশা-আকাঙ্খা, স্বপ্ন, কল্পনা, সংগ্রামসাধনার রূপায়ন ঘটায় ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আত্মপরিচয় স্বতন্ত্র নির্বিশেষে সবার পরিচয় বিধৃত করে। জাতীয় কবি তিনিই হতে পারেন যার কাজসমগ্র জাতির প্রতিনিধিত্ব করে। কাজী নজরুল ইসলাম একদিকে যেমন বাংলার মুসলিম সমাজকে জাগিয়েছেন। অপরদিকে তেমনি সমগ্র বাঙালী জাতিকেমুক্তির বাণী শুনিয়েছেন। তার কবিতা   গানের চরিত্রে বঞ্চিত শোষিত নিপীড়িত মানুষের কথা বলে, যা সারা দুনিয়ার মজলুমের বাণী হয়ে উঠেছে।সেকালের শাসক শোষক শ্রেণী, কবি কন্ঠের সে আওয়াজ উপলদ্ধি করেই তার একাধিক গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত এবং তাকে কারারুদ্ধ করেছিল। নজরুল ইসলাম বিদ্রোহীকবি। মুসলমানদের পরাজিত করে ১৭৫৭ সালে ইংরেজরা মতা দখলের পর ১৮৫৭ সালে দীর্ঘ ১০০ বছর পর ইংরেজদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়। ১৮৯৯সালে কবি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীরঅনল প্রবাহকাব্যগ্রন্থ রচনা ১৯০২ সালে প্রকাশের পর ব্রিটিশ সরকার তাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ ১৪৪বছরের মধ্যে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় প্রতিবাদ। অথচ ১৮৬১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহন করেন এবং এরই মধ্যে তিনি বিভিন্ন গ্রন্থ লিখে বিখ্যাতহয়ে উঠেন। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ এবং ১৯০২ সালে ইসমাইল হোসেন সিরাজীর কাব্যগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত গ্রেফতারে তার কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।১৯০৬ সালে স্যার সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ গঠিত হলে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন সফল হয়। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ কলকাতা  কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবীরাবঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করেন। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারও তারা বিরোধিতা করেন। ইতিমধ্যেই ব্রিটিশদের আক্রমণ করে নজরুলের কিছুকবিতা লেখা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হতে থাকে। ১৯২২ সালে বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে নজরুলের আসল চেহারা ফুটে উঠে। এই বিদ্রোহী কবিতারমাধ্যমে ১৭৫৭ সালের পর তৃতীয়বারের মত সিপাহী বিপ্লব হয়। বিদ্রোহী কবিতার বিদ্রোহ ছাড়া আর কোন বিদ্রোহের কথা ইতিহাসে জানা যায় না। দ্বিতীয়তকাজী নজরুল কে শুধুমাত্র বিদ্রোহী  কবি আখ্যায়িত করলে খন্ডিত করে দেখা হয়। তিনি মূলত মানবতার কবি। ইব্রাহীম খাঁ কে লেখা একটি পত্রে তিনি বলেনআমি মানুষকে শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি। স্রষ্টাকে আমি দেখিনি কিন্তু মানুষকে দেখেছি। এই ধুলিমাখা পাপলিপ্ত অসহায় দুঃখী মানুষই একদিন বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণকরবে এই ধূলোর নিচে স্বর্গ টেনে আনবে আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি। সব ব্যথিতের ব্যথায় সব অসহায়ের অশ্রজলে আমি আমাকে অনুভব করি, আমারপ্রতিচ্ছবি দেখতে পাই মানুষ কবিতায় তার দৃপ্ত উচ্চারণ-
গাহি সাম্যের গান
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নহে
নহে কিছু মহীয়ান।
কবি শ্রমিকের গান, কৃষাণের গান, ধীবরের গান, চাষী গরীবের ব্যথা ফরিয়াদ কবিতায় চিরবঞ্চিত গণমানুষের কথা বলেছেন। তার মানুষ দেশ কালেরঊর্ধ্বে শ্রমজীবী
সাধারন মানুষ- আর অর্থে তিনি বিশ্বমানবতার কবি।
তৃতীয়ত, নজরুল  ছিলেন অসম্প্রদায়িক কবি। শাস্ত্রধর্ম অপো মানুষ্য ধর্ম তার কাছে বড় ছিল। সাম্যবাদী কবিতায় তার সাহসী উচ্চারণ এই হৃদয়ের চেয়ে বড়কোন মন্দির কাবা নাই। তিনি কোন ধর্মের বাছ বিচার করেন নি। তিনিই বলতে পেরেছিলেন-
হিন্দু না ওরা মুসলিম জিজ্ঞাসে কোন জন
কান্ডারী বল ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মার
চতুর্থত হিন্দু মুসলমানের সংস্কৃতি যেভাবে নজরুল আয়ত্ব করতে পেরেছিলেন অন্য কোন কবি সে ভাবে আয়ত্ব করতে পারেননি। তিনি একই সঙ্গে  শ্যাম সঙ্গীত হামদ-নাত রচনা করেছেন। হিন্দুদের নিয়ে রক্তাম্বরধারিণী মা, আনন্দময়ীর আগমনে প্রভৃতি কবিতা লিখেছেন। ইসলামের বিষয় নিয়ে ফতেহা-ইয়াজদহম, কোরবানী, মহররম প্রভৃতি কবিতা রচনা করেন। ১৯২৮ সালে কলকাতায় তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল। সভার নেতা সুভাষচন্দ্র বসুঅকপটে উচ্চারণ করেন, আমরা যখন যুদ্ধ েেত্র যাব তখন সেখানে নজরুলের গান গাওয়া হবে। সভাপতির ভাষনে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় বলেন, নজরুলইসলামের কবিতা পাঠে আমাদের ভাবী বংশদররা এক একটি অতি মানুষে পরিনত হবে। রবীন্দ্রনাথও অন্য এক প্রসঙ্গে নজরুল ইসলামের কবিতা সম্পর্কেবলেন জনপ্রিয়তা কাব্য বিচারের স্থায়ী নিরিখ নয় কিন্তু যুগের মনকে যা প্রতিফলিত করে তা শুধু নয় মহাকাব্য।
কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় হল যে রকম একজন মহান কবিকে আজ এদেশেই তার প্রাপ্ত সম্মান টুকুও দেয়া হচ্ছে না। আরো দুঃখের বিষয় এই যে কাজীনজরুল ইসলামকেই নয় বাংলা সাহিত্যে যারা অসামান্য অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, কায়কোবাদ, জসীমউদ্দিন, গোলামমোস্তফার নাম ভুলক্রমেও উচ্চারিত হয় না কোন সভাসমিতিতে অথচ একশ্রেণীর মিডিয়া বর্তমান সময়ে জানা-অজানা, চেনা-অচেনা কত কবি সাহিত্যিক শিল্পী গুণীজন বলে বিবেচ্য মানুষকে সংবর্ধনা, পদক, সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। আর প্রিন্ট মিডিয়া ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তা ফলাও করে প্রচার করছে। আরবেশী কথা বলতে চাই না। তবে অনেক  মানুষ প্রশ্ন করেন যে এত বড় একজন কবি কেন নোবেল পুরস্কার পেলেন না? অনেকে আবার উত্তর দেন যে নজরুলেরকবিতা ইংরেজীতে অনুবাদ করা হয়নি এই জন্য পাননি। মজার বিষয় হল সময় ইংরেজরা খুব ভাল বাংলা জানত না। ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে কোনকবিতা বা বিছু লেখা হলে পরদিনই তা বাজেয়াপ্ত  করা হতো। অনুবাদ না করে  কিভাবে সেটা বুঝতে পারতো ইংরেজ বুদ্ধিজীবীরা আরেকটা বিষয় হচ্ছে কবিনজরুলের কবিতা যে হারে এবং যত তাড়াতাড়ি ইংরেজীতে অনুবাদ হতো অন্য কোন কবির  কবিতা এত দ্রুত  হতো না। তাহলে কেন তিনি নোবেল পেলেননাবিবেকবানদের  প্রশ্ন, কারণ তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সহ অন্য সকল কবিদের মত ব্রিটিশদের আস্থাভাজন ছিলেন না। তিনি নিপীড়িত মজলুম মানুষেরপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, অত্যাচারীর বিরুদ্ধে  সমোঝতা নয়, বিদ্রোহ করেছিলেন।  যারা ব্রিটিশ সরকারের পৃষ্টপোষকতায় সাহিত্য রচনা করেছেন তারা নানাপদক সম্মাননা  এমনকি তাদের নামে বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠান নামকরণ করার কথা বলা হয়েছে। অথচ যারা জেল খেটে সীমাহীন অত্যাচারের স্বীকার করেদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের জন্য, স্বাধীনতার জন্য কবিতা লিখেছেন সেই সকল কবিদের আজ কোন নাম , আলোচনা নাই, সম্মান নাই ১৯৭২ সালে শেখমজিবুর রহমান নজরুলকে দেশে নিয়ে এসেছিলেন। তখন কিছু দিন তার উত্তম পরিবেশ ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল বর্তমানে এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীএকজনকে বড় করতে গিয়ে কবি নজরুলের মত কবিকে সাধারন কবিদের সাথে শামিল করতে চান। তাই নজরুলকে নিয়ে আরো গবেষণা আলোচনারদরকার। অবশ্য ২৫ মে তার জন্মবার্ষিকী পালন উপল্েয আলোচনা চলছে এবং আরো আলোচনা হবে , কিন্তু সরকারী ব্যাপক পৃষ্টপোষকতায় আরো গবেষণা আলোচনা প্রয়োজন।

লেখক : শিার্থী, বাংলা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

বিজ্ঞান জগৎ

কোরআন ও বিজ্ঞান ঃ
সবকিছুই জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি
আবু সালেহ


মহান প্রভূ তাঁর সৃষ্টি জগতকে বহুরূপে নান্দনিক সৌন্দর্যে সুশোভিত করেছেন। ভেবে দেখুন, এই পৃথিবীতে সব কিছু থাকার পরও যদি শুধুমাত্র কোন প্রকার ফুল-কলি না থাকত তবে পৃথিবীটা কেমন লাগত। আবার সকল প্রকার কুসুম কলি থাকলেও যদি এর কোন প্রকার সুঘ্রাণ না থাকত তবে সুবাসহীন পৃথিবীটা কেমন উদ্ভট লাগত। ধরি এগুলো সব থাকত কিন্তু পৃথিবীতে থাকত না কোন প্রকার পাখ-পাখালি আর তাদের মিষ্টি সুরের কল- কাকলী, তবে পৃথিবীটা যে কত ভয়ানক নীরস লাগত। অন্যথায় পৃথিবীটা যদি এমন হতো যে, কারো কোন প্রকার সঙ্গী বা সঙ্গিনী না থাকত শুধুমাত্র বিভিন্ন শ্রেণীর উভয়লিঙ্গিক প্রাণী থাকত যারা পৃথিবীতে বংশ বৃদ্ধি করত। তখন এই পৃথিবীটা কত যে প্রেমহীন ও ভাবলেশহীন নিরামিষ মনে হত। কিন্তু না মহাবিশ্বের পরম প্রতিপালক যে অসীম উন্নত দৃষ্টিভঙ্গির ও রোমান্টিক সৃষ্টি কৌশলের মহান কারিগর । তাই তো তিনি সৃষ্টি জগতে সবকিছু করেছেন জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি। আর তা পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় ঘোষণা করেছেন এভাবে
“আর প্রত্যেক বস্তু আমি সৃষ্টি করিয়াছি জোড়ায় জোড়ায় যাহাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।” (সুরা যারিয়াত, আয়াত-৪৯)
“পবিত্র মহান তিনি যিনি উদ্ভিদ, মানুষ এবং উহারা যাহাদিগকে জানেনা, তাহাদের প্রত্যেককে সৃষ্টি করিয়াছেন জোড়া জোড়া করিয়া।” (সুরা ইয়াসিন-৩৬)
“আমি সৃষ্টি করিয়াছি তোমাদিগকে জোড়ায় জোড়ায়। ” (সুরা নাবা-৭৮ঃ আয়াত-৮)
“আর যিনি সকল প্রকারের জোড়া যুগল সৃষ্টি করেন।” (সুরা যুখরুফ ৪৩ ঃ আয়াত ১২)
উপরের আয়াতে যুগল বা জোড়া বুঝাতে ঝা, ওয়াও, জিম এই হরফ তিনটি ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ শব্দটি ঝাওজুন। ঝাওজুন শব্দটি দ্বারা শুধু জোড়াই নয় বরং স্বামী-স্ত্রীও বুঝায়। আবার সব কিছু জোড়ায় জোড়ায় বলতে জড় এবং জীব কিছুই বাদ পড়েনা। জীব বা প্রাণীকে না হয় বোঝা গেল জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে। কারণ উদ্ভিদও স্ত্রীলিঙ্গ এবং পুংলিঙ্গ হয়। তাছাড়া একই গাছের রেনুও দুই লিঙ্গের যা বাতাস, কীটপতঙ্গ, পোকামাকড় ও পশু পাখি দ্বারা স্থানচ্যুত হয়ে গর্ভধারণ করে। প্রশ্ন হচ্ছে জড় পদার্থের তো কোন ছেলে মেয়ে বা বংশবৃদ্ধি নেই। তবে কীভাবে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি হল এসব? তাহলে কী কোরআনের বাণীতে অসঙ্গতি আছে? নাউযুবিল্লাহ বিজ্ঞানীদের গবেষণার মাধ্যমে আপনারা জানেন প্রতিটি পদার্থই ুদ্রাতিুদ্র পরমাণু দিয়ে গঠিত। একটি পরমানুর ভিতরে আছে ইলেকট্রন প্রোটন ও নিউট্রন। এখানে ইলেক্ট্রন নেগেটিভ চার্জযুক্ত এবং প্রোটন পজেটিভ চার্জযুক্ত। আর নিউট্রন চার্জ নিরপে বলে জোড়া গঠনে অংশ গ্রহণ না করে পরমানুর কেন্দ্রে বা নিউকিয়াস গঠন কর। তাই এখানে ঋনাতœক চার্জের প্রোটনের সাথে যুগলবদ্ধ হয়ে জোড়া পরমাণু গঠন করে। আবার দেখা যায় প্রতিটি পরমানুতেই ইলেক্ট্রন ও প্রোটন সংখ্যা সমান। সুতরাং নিশ্চয়ই পরমাণুও জোড়ায় জোড়ায় ইলেক্ট্রন ও প্রোটন নিয়ে গঠিত। এখানেই শেষ নয় এখন পরমাণুর মধ্যেও আবিষ্কার হয়েছে কোয়ার্ক ও এন্টিকোয়ার্ক, ডয়টেরন ও এন্টিডয়টেরন। এগুলো থাকে পরমানুর মধ্যে জোড়ায় জোড়ায় বিপরীত লিঙ্গ। আলহামদুলিল্লাহ্ “আল্লাহর বাণীর কোনই পরিবর্তন নাই। উহাই মহাসাফল্য।” (১০ঃ ৬৪)
“এরূপ আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন বিশদ ভাবে বর্ণনাকরি।” (৭ঃ৩২)
বস্তুতপে সৃষ্টি জগতের শ্রেষ্ঠ মর্র্র্যাদার আসনে রয়েছে মানবজাতি, মানবজাতির সামাজিক বন্ধন এবং পরস্পরের প্রতি ভালবাসার বন্ধনও খুব সুদৃঢ়। তাই যুগল অন্ত:বর্তী আকর্ষণও মানব জাতির মধ্যে সর্বাধিক। পৃথিবী সৃষ্টিলগ্ন থেকে শুরু করে অদ্যবধি প্রতিটি প্রাণের চরম ও পরম আকর্ষন তার বিপরীত লিঙ্গ তথা সঙ্গী বা সঙ্গীনিকে পাওয়া। আর একে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় জীবন ইতিহাসে কত গল্প কত কাহিনী কত ত্যাগ-তিতিা আর কতনা সংগ্রাম ও সাধনা। যেখানে থাকে একে অপরের প্রতি গভীর প্রেম ভালবাসার এক স্পষ্ট নিদর্শন। যে প্রবৃত্তি মানুষের জন্মগত ও সহজাত। আর এই প্রেম মূলত খোদার প্রেমের গভীরতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। মানুষ তথা সৃষ্টি জগতের মধ্যে মহান প্রতিপালক তাঁর সমগ্র ভালবাসার একশতভাগের একভাগ মাত্র দান করেছেন। এই একভাগ ভালবাসার টান যে কত প্রবল কত প্রখর আর যেই স্রষ্টার কাছে রয়েছে আরো নিরানব্বই গুন বেশী ভালবাসা সেই স্রষ্টা না জানি তার সৃষ্টি আশরাফুল মাখলুকাতকে কত বেশী ভালবাসেন। সুতরাং আমাদের সকলের ভালবাসার কেন্দ্রবিন্দু হউক ভালবাসার মহাসাগর রহমানুর রাহিমকে ভালবেসে খুশি করার মধ্যে।
##

ইতিহাস ঐতিহ্য



পলাশীর চেতনায় দেশপ্রেমে
উদ্বুদ্ধ হতে হবে
মু. দাইয়ান সালেহীন

১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন উপমহাদেশ তথা মুসলমানদের স্বাধীনতা হরণের একটি দিন। সেদিন বাংলার সূর্য প্রায় ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল সেইঐতিহাসিক পলাশীর আম্রকাননে এর পরে  শুধুই স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। দীর্ঘ  স্বাধীনতা সংগ্রামের রক্তাক্ত ইতিহাস  বারবার মলিন হয়েছে এক শ্রেণীরস্বার্থপর তাবেদার এবং বিশ্বাসঘাতক পশুদের দ্বারা। পাকিস্তান বিভাগ পরবর্তী বাংলাদেশের  স্বাধীনতাকে পুঁজি  করে একশ্রেণীর দালালরা এদেশের মাটিকেবারবার কলংকিত করেছে। শেখ মুজিব, এরশাদ, শেখ হাসিনা এদেরই উত্তরসূরী। সেদিন যদি মীর জাফর বিশ্বাসঘাতকতা না করতো তাহলে বাংলার ইতিহাসহয়তো অন্যভাবে লেখা হত।৭১ পরবর্তী শেখ মুজিব যদি বিশ্বাসভঙ্গ করে ভারতের তাবেদারীতে লিপ্ত না হত তবে আজকে বাংলাদেশের চেহারা হয়তোঅন্যরকম হতে পারত। ঠিক তেমনি বর্তমান সরকার যদি তার অগ্রজদের ন্যায় দালালের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হত তাহলে ভবিষ্যত বাংলাদেশের স্বপ্নঅন্যভাবেও দেখা যেত। কিন্তু অত্যন্ত  দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা চরিত্রের এক অভূতপূর্ব মিল, তাদের কর্মপদ্ধতিগত অভিন্নতাপলাশীর আম্রকাননে অস্তমিত  সূর্যকে আজও উদিত হতে দেয়নি। ইংরেজদের সাথে মীর জাফরের চুক্তি, ইন্দ্রিরা গান্ধির সাথে শেখ মুজিবের চুক্তি এবং সর্বশেষমনমোহনের সাথে শেখ হাসিনার চুক্তি (দেশ বিক্রি) তারই সত্যতার স্যা বহন করে।
নবাব সিরাজের বিরুদ্ধে জগশেঠ, রাজবল্লবদের নেতৃত্বে সুবে বালার হিন্দু প্রধানেরা এবং রবার্ট কাইবের  নেতৃত্বে বিদেশী বেনিয়া ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীমীর জাফরকে সামনে রেখে ষড়যন্ত্র করেছিল, তারই পরিণামে সংঘটিত হয়েছিল পলাশীর যুদ্ধ। ষড়যন্ত্র ছিল ভিতরে ভিতরে, বাইরে ছিল নবান সিরাজেরঅত্যাচার অবিচার (?) থেকে সুবে বাংলার মুক্তির বুলি। বলাবাহুল্য, ওই তথাকথিত মুক্তির জন্য ইংরেজ বেনিয়াদের সঙ্গে মীরজাফরের চুক্তিও হয়েছিল। ওইচুক্তির  মধ্যে লেনদেনের কথাও ছিল। এটা ১৯৫৭ সালের কথা। এই চুক্তির ২১৪ বছর পর ১৯৭১ সালে এই  বাংলায় আর একটি যুদ্ধ হয়েছিল ব্যাপারটাসবারই জানা। পাকিস্তানীদের অত্যাচার অবিচার থেকে এদেশের মানুষদের মুক্তি দেয়ার জন্য সংগঠিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ। এই যুদ্ধে ইংরেজ বেনিয়াদের স্থানেছিল ভারতে বেনিয়ারা আর মুক্তিযুদ্ধের নেতা ছিলেন শেখ মজিবুর রহমান। এটা আর বলার অপো রাখেনা যে , ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকে  কেন্দ্র করেও চুক্তিহয়েছিল ভারত সরকারের সাথে আওয়ামী নেতৃবৃন্দের এবং এসব চুক্তিতেও নানা কথার আড়ালে লেনদেন এর ব্যাপারও ছিল। ১৭৫৭ সালের লেনদেন এতইবিপুল পরিমান ছিল যে, তার  মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সুবে বাংলায় এসেছিলছিয়াত্তরের মনন্তরযাতে বাংলার এক তৃতীয়াংশ লোক প্রাণ হারিয়েছিল। আবার ১৯৭১ সালে লেনদেনও এত ভয়ঙ্কর ব্যাপক ছিল যে তার ফলে বাংলায় এসেছিল দূর্ভি যা এদেশে সত্তরের দূর্ভি নামে পরিচিত। এই মহামন্বন্তরেকলা পাতার কাফন পরিয়ে মানুষের লাশ দাফন করতে হয়েছিল। ঠিক একই ধারাবাহিকতায় ভারতের সাথে বর্তমান সরকারের দেশ বিরোধী চুক্তির লনাকরা যেতে পারে। শেখ হাসিনা মতায় আসার পিছনে ভারতের সাথে চুক্তি ছিল এবং এখানেও লেনদেন এর সংশ্লিষ্টতা ছিল যার পরিণতি বিগত দুটি চুক্তিরচেয়েও মারাত্বক।  ভারতের দাবি ছিল শেখ হাসিনাকে মতায় বসাতে পারলে ট্রানজিট, সমুদ্র বন্দর প্রভৃতি ব্যবহার করার সুযোগ দিতে হবে, ফারাক্কার মতআরও কয়েক ডজন বাঁধ তৈরী করে বাংলাদেশকে  মরুকরণ করার সুযোগ দিতে হবে, প্রতিপ বাহিনীর ভিতর বিভেদ সৃষ্টি করে দেশের প্রতিরা ব্যবস্থা দূর্বলকরার সুযোগ দিতে হবে, সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে বাংলাদেশকে আবদ্ধ করার সুযোগ দিতে হবে, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যদিও তা বাংলাদেশে পাওয়াযায় তথাপি ভারত থেকে আমদানী করে দেশীয় পন্যের বাজার নষ্ট করে ভারতকে একচেটিয়া মনোপলি অর্জনের সুযোগ দিতে হবে, বিগত জোট সরকারেরআমলে ভারতের সেকুলার স্বার্থে যে প্রভূত তি সাধিত হয়েছে ধর্মবিরোধী শিানীতি বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করে তার তিপূরণ আদায় করা হবে, এবংসর্বপরি বাংলাদেশকে ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার যাবতীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে হবে। মীর জাফর যেমন নবাবের তথাকথিত অত্যাচার থেকেদেশকে মুক্ত করার নামে আপামর জনতার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছিল। শেখ মুজিব যেমন স্বাধীনতার নামে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে বাকশাল  কায়েমকরেছিল, ঠিক তেমনি শেখ হাসিনাও তথাকথিত যুদ্ধপরাধী বিচারের ছদ্মাবরণে মানবতা বিরোধীদের বিচার করার নামে জাতিকে দ্বিধা বিভক্ত করে আবালবৃদ্ধ জনতার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতায় লিপ্ত। আর কারণেই ছিয়াত্তরের মন্বন্তর আর সত্তরের দুভির্রে ন্যায় আরো একটি অশনি সংকেত হয়তো আমাদের জন্যঅপো করছে। পাঠকদের জ্ঞানার্থে বিশ্লেষণ সুবিধার্থে অনুরোধ করতে চাই ইতিহাস থেকে মীরজাফর মুজিবের কৃত চুক্তিদ্বয় পড়ে নিয়ে নিরপে দৃষ্টিতেবিশ্লেষণ করবেন। কারণ আমরা আজ এমন এক প্রান্তিক বিন্দুতে এসে উপনীত হয়েছি যে নিজেদের স্বাধীনতা  রা করা
সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। অন্যথায় আমাদের অস্তিত্ব হবে বিপন্ন, আমরা হারিয়ে যাব অবলুপ্তির অতল গহ্বরে। বস্তুতই মনে রাখা আবশ্যক যে স্বধীনতাআল্লাহপাকের একটা অত্যন্ত বড় নিয়ামত। অথচ আল্লাহপাকের কথা ভুলে গিয়ে আমরা এই নেয়ামতের কদর তো করছিই না, বরং পদে পদে শুধু অমর্যাদাকরছি। এই রকমের না শোকরি আল্লাহ বেশি দিন পছন্দ করবেন না। আর এজন্যই অবস্থা আজ এমন কুসিত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, খুন, রাহাজানি, সন্ত্রাস, অপহরণ,চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, অশ্লীলতা , কোচ, কালোবাজারী, দলীয় ক্যাডারদের অর্থদন্ড ,এসব নিয়ে বাংলাদেশ এখন দূর্নীতির শীর্ষে অবস্থানকারী একটি জ্বলন্ত জাহান্নাম। মানুষের মধ্য থেকে বিশেষ করে নেতা-নেত্রীদের মধ্য থেকে আখিরাতের ভয় , দেশপ্রেম মানুষের প্রতি দায়িত্ব বোধ বিলুপ্ত হয়েযখন মসনদপ্রীতি ধনলিপ্সা  একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়, তখন এই লোভী দায়িত্ব হীন মানুষের দ্বারা শাসিত, পরিচালিত দেশ সমাজ কখনো শান্তিরজনপদ হতে পারেনা। রকম দেশ সমাজে আল্লাহ সার্বণিক ভয় নিরাপত্তাহীনতার লেবাস পরিয়ে দেন। অভিশপ্ত  মীরজাফর এবং তার উত্তরসূরীরা যখনস্বদেশ ভূমির প্রকৃত গলক নিয়ন্ত্রক তখন আল্লাহ তার বরকতের সকল দ্বার এখানে বন্ধ করে দিলে সেটা অস্বাভাবিক হবে না। কারণ অনাহার কিষ্ট মানুষেরসংগে তামাসা করার জন্য স্বধীনতা  অর্জিত হয় নি। সন্দেহ নেই সকল নেতা নেত্রীসহ আপামর জনগণ আমরা সবাই দেশকে ভালবাসি এবং দেশের স্বাধীনতকেভালবাসি। কিন্তু ভালবাসাই সব নয়। ভালবাসা যদি আত্মস্বার্থের পোষকতা বাণিজ্য পণ্য আর মীর জাফরের মত বিশ্বাস ঘাতকতার নামান্তর হয় তবে সেটাকেবর্জন করাই শ্রেয়। আমাদের অন্তত এতটুকু বোঝা উচিত দেশের উন্নতি মানে হাইরাইজিং বিল্ডিং কিংবা ফাইওভার নয়, রিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ, কিছু ভিআইপিগমনাগমনের সড়ক নয় আইএমএফ বিশ্ব ব্যাংক থেকে অর্থ ধার করে কিছু মানুষের ঘৃত সেবনের ব্যবস্থা করা নয়, দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়েপ্রতিবেশীদেরকে উদার হাতে সবকিছু বিলিয়ে দেয়া নয়- এসব কিছুই নির্মম তামাশা। আমাদের হারানো স্বধীনতার সূর্যকে যদি ফিরিয়ে আনতে হয় কিংবাআমাদের দেশপ্রেমকে যদি অর্থবহ করতে হয় তাহলে দেশ বিদেশের কুলকানি ঋতুপর্নাদের শাহরুখদের নৃত্যগীতের আসর সাজানো নয়, কতিপয় কুহকতাড়িতবুদ্ধিজীবীদের মনরা করা নয়, আমাদের উচিত হবে দেশের নব্বই ভাগ তাওহিদী মানুষের আকাঙ্খা হৃদয়স্পন্দনকে অনুভব করা, জাতিকে দ্বিধা বিভক্ত করেএমন বিচার সম্পন্ন না করেধিত জঠরে যারা কাজ করে তাদের পাশে দাঁড়ানো। শতাব্দীর পর শতাব্দী ব্যাপী মীর জাফর  ঘষেটিদের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশনামক এই হাড্ডিসার কামধেনুনি আর পারছে না। দুধ নয়, দেশের দশ শতাংশ বুদ্ধিজীবী নামের পরজীবীদের দোহনে এই হতবাগা  দুদেল গাভীর বাট থেকেএখন শুধু রক্ত রিত হচ্ছে। মুজিব পতনের মধ্য দিয়ে নদীর পানি উজানে বইলেও জাতীয় চেতনার উত্থান পুরোপুরি হয়নি, পুরানো পাকে আবর্তিত হচ্ছে দেশ।তাই দেশ প্রেমিক জনতার সিদ্ধান্ত নেবার সময় এসেছে  তীতুমিরের বাঁশের কেল্লা থেকে আরও একবার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করতে হবে।

লেখক: শিার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ক্যাম্পাস



জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা
সৈয়দ আল জাবের আহমেদ

বুড়িগঙ্গা নদীর কোল ঘেঁষে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে পুরান ঢাকার গৌরব ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। সূদীর্ঘ ১৪২ বছর ধরে জ্ঞানের জ্যোতি বিকিরণকরে চলছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রবীন বিশ্ববিদ্যালয়টি। চাতকের মত তৃষিত জ্ঞান পিপাষু মেধাবী শিার্থীদের দীপ্ত পদভারে মুখরিত শিাঙ্গনটি।থিকথিকে অন্ধকার দূরকরণে আলোর মশাল হাতে নিয়ে ছুটছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। আলোকিত বিকশিত সমাজ গঠনে স্বার রেখে যাচ্ছে। জাতীয় রাজনীতিরপ্রবল প্রভাবকের ভূমিকা রেখে আসছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ভাষা আন্দোলনে শহীদ রফিক, স্বাধীনতা যুদ্ধের নাম না জানা অসংখ্য শহীদ স্বৈরাচার বিরোধীআন্দোলনের শহীদ মোজ্জাম্মেল হক ইসলামী শাসন কায়েমের স্বপ্নরাজ সৈনিক মর্দে মুজাহিদ শহীদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সালের সুরোভিত পদধুলিতে গৌরবান্বিত বিশ্ববিদ্যালয়। সৃজনশীল মননশীল মেধাবীদের শীর্ষতম পছন্দের বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
পেছন পানে চেয়ে দেখিঃ- ১৪২ বছর পূর্বে জগন্নাথ স্কুল নামে ১৮৬৮ সালে এর পথ চলা শুরু হয়। এর পর ১৮৮৪ সালে ঢাকা জগন্নাথ কলেজ নামে এররূপান্তর ঘটে। উপমহাদেশের অন্যতম প্রধান কলেজে পরিণত হয় ঢাকা জগন্নাথ কলেজ। ১৮৮৭ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে স্কুল শাখা পৃথক হয়ে যায়। ১৯২০সালে ওহফরধহ ষবমরংষধঃরাব পড়ঁহপরষ ঔধমধহহধঃয পড়ষষবমব ধপঃআইন পাশ করে নথিভূক্ত করে। ১৯২০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  প্রতিষ্ঠাউপলে ট্রামিষ্ট্র বোর্ডের অবসান ঘটে। এবং ১৬, ১৯২০ এর আওতায় জগন্নাথ কলেজের সমস্ত সম্পত্তি দায় দেনার ভার স্থানীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে কলেজটিতে স্নাতক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে শিার্থী ভর্তি বন্ধ হয়ে যায় এবং এটি জগন্নাথ ইন্টারমিডিয়েট কলেজ নামেপ্রতিষ্ঠা পায়। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে পুনরায় স্নাতক পাঠ্যক্রম চালু হয়। ১৯৬৮ সালে জগন্নাথ কলেজ সরকারি করা হয়। ১৯৭৫ সালে এখানে সম্মান স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রম চালু হয়। পরে এটাকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তর করা হয়। ১৯৮২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে ভর্র্তি বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে১৯৯১-৯২ শিাবর্ষ থেকে সরকারি জগন্নাথ কলেজের কার্যক্রম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্থানান্তর করা হয়। অবশেষেজাতীয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত ২০০৫ সালের ২৮নং আইনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী সরকারি জগন্নাথ কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয় এবং ২০০৫সালের ২০ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
বর্তমান অবস্থাঃ- বিশ্ববিদ্যালয়টি  ১১.১১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। চারটি অনুষদের মাধ্যমে আটাশটি  বিভাগে ২৪,০০০ হাজার শিার্থী অধ্যয়নরত।চারশতাধিক শিক পাঠদানে নিয়োজিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোঃ- একটি প্রশাসনিক ভবন। দুইতলা বিশিষ্ট ব্রিটিশ  আমলে নির্মিত ভবনটি ঢাকা মহানগরের ১৯৩ টি দর্শনীয় স্থাপনার একটি।এখানে ভিসি কার্যালয়, কোষাধ্য কার্যালয়, রেজিস্টার প্রক্টর অফিস এবং গণসংযোগ অফিস রয়েছে। চারটি অনুষদের রয়েছে পৃথক পৃথক  টি ভবন।সংস্কৃতি চর্চার জন্য অবকাশ ভবন নামে একটি পৃথক ভবন রয়েছে।
যে সব বিষয়ে পাঠদান করা হয়ঃ
 বিজ্ঞান অনুষদ:- পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, প্রাণীবিজ্ঞান, উদ্ভিদ বিজ্ঞানপরিসংখ্যান, গণিত , ভূগোল পরিবেশ, মনোবিজ্ঞান, ফার্মেসী, মাইক্রোবায়োলজি কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।
ব্যবসায় শিা অনুষদঃ অ্যাকাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশনসিস্টেম, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, ফিন্যান্স ব্যাংকিং এবং মার্কেটিং বিভাগ।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদঃ- রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, নৃ-বিজ্ঞান, এবং গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগ।
কলা অনুষদবাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস সংস্কৃতি, ইসলামিক স্টাডিজ, দর্শন আইন বিভাগ। উপরোক্ত চারটি অনুষদে আঠাশটিবিভাগে মোট আসন সংখ্যা রয়েছে ,৬৩৫টি।
যা কিছু আছেঃ  শিার্থীদের জন্য একটি সম্দ্ধৃ লাইব্রেরী রয়েছে। মেডিকেল সেন্টার আছে, সাংবাদিক সমিতি, সাইবার সেন্টার, আধুনিক শীততাপ নিয়ন্ত্রিতমিলনায়তন, আছে সৌর বিদ্যুগবেষণা কেন্দ্র, বিএন সিসি, রোভার স্কাউট, রেঞ্জার ইউনিট, বাঁধন ইউনিট, টি খেলার মাঠ (ধোপ খোলা) ছাত্রীদের কমনরুম একটি জামে মসজিদ। তবে যা কিছু আছে তার সবই প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপর্যাপ্ত অপ্রতুল।
পরিবহন ব্যবস্থাঃ- ২৪ হাজার শিার্থীর জন্য মাত্র ৯০০ আসনের ১০টি বাস রয়েছে। শিার্থীরা দীর্ঘ দিন ধরে পরিবহন সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েআসছে কর্তৃপ আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আবাসিক সুবিধা না থাকায় পরিবহনের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। কর্তৃপরেটনক নড়বে কিএমন জিজ্ঞাসা শিার্থীদের। শিকদের জন্য টি বাস দুইটি মাইক্রো বাস আছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল
আবাসিক সুবিধা নেইঃ- এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন আবাসিক সুবিধা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ টি হল বেদখল হয়ে আছে ১৯৮৬ সাল থেকে। প্রশাসন বলছেসরকারের সহযোগিতা ছাড়া বেদখল হল উদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শিার্থীদের  বারবার আন্দোলনও সফলতার মুখ দেখেনি।  শিার্থীদের দাবী নতুন হল নির্মান করে আবাসিক সুবিধা প্রদানে উচ্চ শিার স্বার্থে সরকার নজরে দেবেন কি? সেই নেক নজরের প্রত্যাশায় আবাসিক সুবিধাবঞ্চিত ২৪ হাজার শিার্থী।
ছাত্র-রাজনীতিঃ- সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন এখানে সক্রিয়। ছাত্রদল ছাত্র শিবিরকে কোন কার্যক্রম চালাতে দিচ্ছে না ছাত্রলীগ। কমিটি বিহীন ছাত্রলীগচরম অন্তকোন্দলে আছে। কমিটিহীন ছাত্রলীগ বিভিন্ন গ্র উপ গ্রপে বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বেপরোয়া ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খলআচরণে ভয়ে থাকে সাধারণ শিার্থীরা। সূত্র  জানায় কাম্পাসে মোবাইল ছিনতাই  ইভটিজিং সহ নানা ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা জড়িত। পুলিশ সাংবাদিকদের মারধরের সাথে ছাত্রলীগ জড়িত। ছাত্রলীগের সংঘর্ষে হামলায় বন্ধ হয়ে গেছে জবি একমাত্র ক্যান্টিন। সবার জিজ্ঞাসা বেপরোয়া ছাত্রলীগকেরুখবে কে?
সংস্কৃতি চর্চাঃ- সংস্কৃতি চর্চা এখানে নিয়মিত। নিমন্ত্রণ সাংস্কৃতিক সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জবি আবৃত্তি সংসদ, ডিবেিিটং সোসাইটি, উদীচী এখানে সক্রিয়। গান, আবৃত্তি, বিতর্ক, নাটক, নাচ প্রভৃতি সংস্কৃতির নানা ধরনের চর্চা দেখা যায়।
প্রত্যাশাঃআছে-নেই এর মাঝে অপার সম্ভাবনার তরী বেয়ে এগিয়ে চলছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। আলো ছড়াচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। হলসহ যাবতীয়অপ্রাপ্তির আবসান আশু হতে যাচ্ছে। নিরন্তর নিবিড় প্রচেষ্টা আন্তরিকভাবে চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। আলো আসছে আলো আসবেই এই প্রত্যয়।
লেখকসাংবাদিক